প্রায় ২০ বছর কোর্টে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন নোভাক জোকোভিচ ও অ্যান্ডি মারে। দীর্ঘ দুই দশকের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৭টি গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনালসহ ৩৬ বার একে অপরের বিপক্ষে লড়েছেন টেনিসের দুই কিংবদন্তি। তবে গত আগস্টে ইংলিশ তারকা মারে খেলোয়াড় হিসেবে টেনিসকে বিদায় বললে থেমে যায় এ দ্বৈরথ। এরপর সবাইকে চমকে দিয়ে গত ডিসেম্বরে মারেকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেন জোকোভিচ।
মারের অধীনে গতকাল সোমবার প্রথমবারের মতো প্রতিযোগিতামূলক টেনিসে খেলতে নেমেছিলেন জোকোভিচ। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের প্রথম রাউন্ডে সার্বিয়ান মহাতারকার শুরুটা হয়েছে মিশ্র অনুভূতিতে। যুক্তরাষ্ট্রের ১৯ বছর বয়সী তরুণ নিশেশ বাসাভারেড্ডির বিপক্ষে প্রথম সেটে যে ৪-৬ গেমে হেরে বসেছিলেন জোকোভিচ!
তবে অঘটন আর ঘটেনি। পরের গল্পটা শুধুই সার্বিয়ান কিংবদন্তির। দুর্দান্ত ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে পরের ৩ সেটে ৬-৩, ৬-৪ ও ৬-২ গেমে জিতে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছেন ২৪ গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী। ছেলেদের এককে এটাই সর্বোচ্চ গ্র্যান্ড স্ল্যামের রেকর্ড। অন্যদিকে ছেলে-মেয়ে হিসেব করলে, সাবেক অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি মার্গারেট কোর্টও মেয়েদের এককে ২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছেন।
এবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতলে মার্গারেটকে ছাড়িয়ে এককভাবে সর্বোচ্চ গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের রেকর্ডে নাম উঠবে জোকোভিচের। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে সর্বোচ্চ গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের রেকর্ডটা ১০ থেকে ১১ তে নিয়ে যাবেন ৩৭ বছর বয়সী জোকোভিচ।
বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামে গতকাল বাসাভারেড্ডির বিপক্ষে প্রথম রাউন্ডের প্রথম সেটে হারের পর কিছু সময়ের জন্য ২০০৬ সালের স্মৃতি ফিরে আসার শঙ্কা দেখা দিয়েছিল মেলবোর্নে। সে বছর পল গোল্ডস্টাইনের বিপক্ষে হেরে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের প্রথম রাউন্ড থেকে বাদ পড়েছিলেন জোকোভিচ। এরপর আর কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যামে অন্তত প্রথম রাউন্ডে হারেননি র্যাঙ্কিংয়ে সাবেক নাম্বার ওয়ান। গতকাল সে শঙ্কা জাগলেও দারুণ প্রত্যাবর্তনে ঠিকই শেষ পর্যন্ত শেষ হাসি হেসেছেন।
এতে কোচ হিসেবে মারের শুরুটাও হলো জয় দিয়ে। ম্যাচ শেষে কোচ মারেকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন জোকোভিচ। সার্বিয়ান তারকা বলেছেন, ‘তাঁকে আমার পাশে (কোচ হিসেবে) পেয়ে রোমাঞ্চিত। আমার কোর্টের পাশে তাঁকে পাওয়া কিছুটা অদ্ভুত। সর্বোচ্চ স্তরে আমরা একে অপরের বিপক্ষে ২০ বছরেরও বেশি সময় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। তাই আমার নেটের পাশে তাঁকে পেয়ে ভালো লাগছে।’
জোকোভিচ যোগ করেন, ‘ও আমাকে তাঁর মতামত ও পরামর্শ দিয়েছিল। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি অ্যান্ডির (মারে) সঙ্গে কথা বলা উপভোগ করি। ও এ্ই খেলার একজন কিংবদন্তি। একজন খেলোয়াড় কোর্টে গেম ছাড়াও শারীরিক ও মানসিকভাবে যেসব উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যায়, সেটা তিনি ভালোভাবেই বুঝতে পারেন। আমাকে বেশি কিছু ব্যাখ্যা করতে হয় না। আমি যা কিছুর মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, সেটা ও সহজেই বুঝতে পারে।’
মারের অধীনে প্রথম ম্যাচ খেলার পর জোকোভিচের মূল্যায়ন, ‘ম্যাচের সময় ও (মারে) আমাকে দারুণ কিছু পরামর্শ দিয়েছে। এভাবে আলোচনা করতে পারাটা ভালো লাগার। এটা দারুণ অভিজ্ঞতা। আশা করি, আমরা এখনই থামব না।’
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের দ্বিতীয় রাউন্ডে পর্তুগালের জেমি ফারিয়ার মুখোমুখি হবেন জোকোভিচ।