অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে কোর্টের বাইরে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাহীনতা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। গতকাল ম্যাচ শেষে কোর্টের বাইরে লকার রুমে যাওয়ার সময় আমেরিকান তারকা কোকো গফ একটি দেয়ালের আড়ালে গিয়ে বারবার মাটিতে র্যাকেট আছাড় মারেন, সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। সেই মুহূর্ত ক্যামেরায় ধরা পড়ার এবং ভাইরাল হওয়ার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ইগা সিওনতেক ও নোভাক জোকোভিচসহ একাধিক তারকা খেলোয়াড়।
পোলিশ তারকা ইগা সিওনতেক টেনিস খেলোয়াড়দের গোপনীয়তা লঙ্ঘন হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে বলেছেন, আমরা কি টেনিস খেলোয়াড় নাকি চিড়িয়াখানার প্রাণী?
ঘটনার সূত্রপাত কোকো গফের সেই র্যাকেট আছাড় মারাকে কেন্দ্র করে। অস্ট্রেলিয়ান নারী এককের কোয়ার্টার ফাইনালে এলিনা সভিতোলিনার কাছে ৫৯ মিনিটে হেরে যাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই হতাশ ছিলেন গফ। হতাশা ঝাড়তেই কি না, স্টেডিয়ামের ভেতরের ম্যাচ কল এলাকার কাছে একটি দেয়ালের আড়ালে গিয়ে বারবার মাটিতে র্যাকেট আছাড় মারতে থাকেন। এই ঘটনার ভিডিও ধরা পড়ে যায় ক্যামেরায় এবং সেই ভিডিও বিশ্বজুড়ে সম্প্রচারিতও হয়ে যায়। এ নিয়ে গফ বিরক্তি জানিয়ে বলেন, লকাররুম ছাড়া কোথাও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নেই — এটি আবিষ্কার করে তিনি বেশ অসন্তুষ্ট।
শুধু কোকো গফই নন, এ নিয়ে খেপেছেন মেয়েদের ও ছেলেদের টেনিসের আরও অনেক তারকা। ইগা সিওনতেক বলেন, ‘প্রশ্ন হলো, আমরা কি টেনিস খেলোয়াড়, নাকি চিড়িয়াখানার প্রাণী - যাদের সব সময় দেখা হয়, এমনকি তারা টয়লেটে গেলেও?’ আজ বুধবার কোয়ার্টার ফাইনালে এলেনা রিবাকিনার কাছে ৭–৫, ৬–১ গেমে হারের পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন সিওনতেক।
সিওনতেক আরও বলেন, ‘ঠিক আছে, কথাটা একটু বাড়িয়ে বলা হয়ে গেল। কিন্তু কিছুটা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা তো রাখাই যায়! নিজের মতো করে কিছু মুহূর্ত কাটানোর সুযোগ যদি না থাকে, সব সময় যদি নজরবন্দী থাকতে হয়, তাহলে তো সেটা কোনোভাবেই ঠিক নয়।’ টুর্নামেন্ট আয়োজকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন কি না — এমন প্রশ্নে তিনি কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলেন, ‘কথা বলে লাভ কী!’
কোকো গফের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এমন কাণ্ডে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ২৪ বারের গ্র্যান্ড স্লামজয়ী নোভাক জোকোভিচ। সার্বিয়ান এই তারকা গফের অনুভূতির সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, ‘হতাশা বা রাগ প্রকাশ করার মতো এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে ক্যামেরা নেই — এটা সত্যিই দুঃখজনক।’
ভবিষ্যতে ক্যামেরা কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও দেখেন না জোকোভিচ, ‘আমরা এমন এক সমাজে বাস করি, যেখানে কনটেন্টই সবকিছু। ক্যামেরা উঠিয়ে নেওয়ার তাগিদ তৈরি হবে, এটা কল্পনা করাই কঠিন। অবাক লাগে! গোসলের সময় এখনো ক্যামেরা নেই — সম্ভবত অতটুকুই বাকি আছে এখন! আমি এসবের সঙ্গে মোটেও একমত নই।’
গফের এই ঘটনায় টেনিস অস্ট্রেলিয়া জানায়, খেলোয়াড়দের সঙ্গে দর্শকদের ‘আরও গভীর সংযোগ’ তৈরির জন্য ওয়ার্ম-আপ ও কুল-ডাউন এলাকাগুলোতে ক্যামেরা বসানো হয়েছে। তবে খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান খোঁজা হবে বলেও জানিয়েছে তারা।
রয়টার্সকে টেনিস অস্ট্রেলিয়া বলেছে, ‘খেলোয়াড়দের ব্যক্তিত্ব ও দক্ষতা তুলে ধরার পাশাপাশি তাঁদের স্বাচ্ছন্দ্য ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করাই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের অগ্রাধিকার। খেলোয়াড়রা যেন সেরা পারফরম্যান্স উপহার দিতে পারেন, সে পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।’



