জোকোভিচকে ২৫ এর কাছে ঘেঁষতে দিচ্ছেন না তারা

ইউএস ওপেনের সেমিফাইনালে কী করতে হবে সেটি জানতেন নোভাক জোকোভিচ। ফাইনালে ওঠার পথে ২২ বছর বয়সী কার্লোস আলকারাসকে পেয়েছিলেন সার্বিয়ান কিংবদন্তিকে।

কোয়ার্টার ফাইনাল জয়ের পর জোকোভিচ জানিয়েছিলেন, আলকারাসকে হারিয়ে ফাইনালে উঠতে গেলে শারীরিকভাবে নিজেকে চাঙা করে তুলতে হবে। পাশাপাশি নিজের সেরা টেনিসটাও খেলতে হবে। শেষ পর্যন্ত শরীরটাই বেঁকে বসল ছেলেদের এককে সর্বোচ্চ ২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিকের।

টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছিলেন ৩৮বছর বয়সী জোকোভিচ। বয়সে ১৬ বছরের ছোট আলকারাসের সঙ্গে প্রথম দুই সেটে লড়াই করেছেন বটে। কিন্তু শেষে শরীর সায় দেয়নি আর। আলকারাসের সঙ্গেও পেরে ওঠেননি জোকোভিচ। ম্যাচটা হেরেছেন ৬-৪, ৭-৬ (৭-৪), ৬-২ গেমে।

এতে ক্যারিয়ারের ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যামের অপেক্ষা আরও বাড়ল জোকোভিচের। অন্যদিকে ২০২২ সালের পর আবারও ইউএস ওপেনের ফাইনালে উঠলেন স্প্যানিশ তারকা আলকারাস। পরের সেমিফাইনালে ইয়ানিক সিনার ৬-১, ৩-৬, ৬-৩, ৬-৪ গেমে হারিয়েছেন ফেলিক্স আলিয়াসিমেকে।

ইউএস ওপেনের আরেক সেমিফাইনালে ফেলিক্স আলিয়াসিমেকে হারিয়েছেন ইয়ানিক সিনার। ফাইনালে আলকারাসের মুখোমুখি হবেন তিনি। ছবি: রয়টার্স

সর্বশেষ সাতটি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মধ্যে সিনার জিতেছেন চারটি, বাকি তিনটি জিতেছেন আলকারাস। সময়ের সেরা দুই তারকার একজনের কাছে যাচ্ছে ২০২৫ এর শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যামটি। ২০২৩-এ সর্বশেষ গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী জোকোভিচ ২০২৫ এর তিনটি স্ল্যামেই এই দুজনের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে। অন্য টুর্নামেন্ট হার মেনেছিলেন নিজ শরীরের কাছে।

আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে আলকারাস-জোকোভিচ সেমিফাইনালের প্রথম দুই সেটে ব্যবধান খুব বেশি ছিল না। আলকারাস দুটি সেট জিতে নেন ৬-৪, ৭-৬ (৭-৪) গেমে। তবে তৃতীয় সেটে গিয়ে জোকোভিচের শারীরিক ক্লান্তি স্পষ্ট হতে থাকে।

ক্লান্ত জোকোভিচের দুটি ডাবল ফল্টে শুরুতেই ৩-১ গেমে এগিয়ে যান আলকারাস। এরপর আরও একটি ডাবল ফল্ট করেন জোকোভিচ। সার্বিয়ান তারকার ভলি বাইরে চলে যায়। এতে আলকারাস পেয়ে যান ম্যাচ পয়েন্ট।

ম্যাচ শেষে নিজের শারীরিক ক্লান্তির কথা অকপটে স্বীকার করেছেন জোকোভিচ। পাশাপাশি সাম্প্রতিক মেজর টুর্নামেন্টগুলোতে ইয়ানিক সিনার ও কার্লোস আলকারাসের দাপটের প্রশংসাও করেছেন। জোকোভিচের ভাষায়, ‘ওরা (আলকারাস ও সিনার) সত্যিই দুর্দান্ত খেলছে, খুব উচ্চ মানের টেনিস খেলছে। আমার শক্তি ফুরিয়ে গিয়েছিল। আমার খেলা নিয়ে আমি খুশি, কিন্তু শারীরিক দিক থেকে পেরে উঠিনি।’

অন্যদিকে ইউএস ওপেনের আরেকটি ফাইনালে উঠতে পেরে খুশি ২০২২ সালের শিরোপা জয়ী আলকারাস, ‘আবারও ফাইনালে উঠতে পারা- এটা আমার জন্য অনেক বড় ব্যাপার। হয়তো এ ম্যাচে আমার সেরা খেলাটা খেলতে পারিনি, তবে শুরু থেকে মাঠা ঠান্ডা রেখে খেলেছিলাম। আর সেটাই কাজে লেগেছে।’