স্ত্রীকে ভরণপোষণ দেওয়া থেকে বাঁচতে ৩ কোটি টাকার চাকরি ছাড়লেন স্বামী! 

স্ত্রীকে মোটা অঙ্কের ভরণপোষণ দেওয়ার ভয়ে চাকরিই ছেড়ে দিলেন এক ব্যক্তি! তবে আদালত এই ‘কৌশলে’ প্রভাবিত হতে নারাজ। পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যে কয় মাসের টাকা বকেয়া সব মিটিয়ে দিতে হবে। আর সেই অঙ্কটা ৬ লাখ ৩৪ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

দ্য স্ট্রেইট টাইমসের প্রতিবেদনে জানা যায়, স্বামী ও স্ত্রী দুজনই ছিলেন কানাডার বাসিন্দা। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে চার সন্তানকে নিয়ে তাঁরা সিঙ্গাপুরে আসেন। ওই ব্যক্তি সিঙ্গাপুরের বহুজাতিক সংস্থায় সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ছিলেন। ২০২৩ সালে তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার। তবে আয়কর বাদ দিয়ে বার্ষিক আয় ছিল ৩ লাখ ১৫ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ কোটি টাকার বেশি।

২০২৩ সালে ওই দম্পতি আলাদা থাকতে শুরু করেন। এরপর বিচ্ছেদের মামলা গড়ায় আদালতে। সিঙ্গাপুরের পরিবার আদালতে ওই ব্যক্তি প্রথমে ২০ হাজার ডলার খোরপোশ দিতে রাজি ছিলেন। মাসিক খরচের মধ্যে ছিল বাড়িভাড়া, বাচ্চাদের স্কুল ফি, স্কুলে যাওয়া-আসার খরচ। কিন্তু পরে ওই ব্যক্তি ৭ হাজার ডলার করে দিতে চান। ওই ব্যক্তির দাবি, তাঁর ‘প্রাক্তন’ স্ত্রী ও সন্তানরা কানাডায় ফিরে গেছেন। সেখানে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বাবদ কোনো খরচ লাগে না। তাই তিনি খরচ কমিয়ে দিচ্ছেন। 

এরপর তাঁর স্ত্রী টাকা বাড়াতে ফের আবেদন করেন আদালতে। তখন তিনি চাকরিটাই ছেড়ে দেন! নিজেকে ‘গরিব’ দেখাতে কানাডায় ফিরে কম বেতনের চাকরি নেন। পরে আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে জারি হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।

এত কিছু করেও লাভ হয়নি। ওই ব্যক্তিকে এখন পর্যন্ত দিতে হয়েছে প্রায় ২ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে দিতে হবে ৬ লাখ ৩৪ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। 

আদালত জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির পক্ষে দায়িত্বশীল কাজটি হতে চাকরি ছাড়লেও এমন চাকরি জোগাড় করা, যার সাহায্যে পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা করতে পারতেন। একইসঙ্গে ওই নারীর এখন চাকরি করা দরকার বলে জানিয়ে দিয়েছে আদালত।