ব্রিটেনের ব্লেনহেইম প্যালেসে একটি শিল্প প্রদর্শনীতে আনা হয়েছিল একটি সোনার কমোড। শিল্পকর্ম হিসেবে কমোডটি প্রদর্শনের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা চুরি যায়। আর এ চুরিতে সময় লেগেছিল সাড়ে ৫ মিনিটেরও কম সময়। ৪.৮ মিলিয়ন পাউন্ড (বর্তমান মূল্যমানে ৬৫ লাখ ১১ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি) মূল্যের সোনার সেই কমোড চুরির দায়ে দুই ব্যক্তিকে সম্প্রতি কারাদণ্ড দিয়েছেন ব্রিটিশ আদালত।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে অক্সফোর্ডশায়ারের ওই প্রাসাদে একটি বিলাসবহুল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মূল্যবাণ এই সোনার টয়লেট প্রদর্শন করা হয়। প্রদর্শনের কয়েক ঘণ্টা পর চোরেরা ১৮ ক্যারেটের সোনার তৈরি টয়লেটটি খুলে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ৪০ বছর বয়সী জেমস শিন (জিমি নামে পরিচিত) ২০২৪ সালে চুরি, অপরাধমূলক সম্পত্তি হস্তান্তর এবং একই লক্ষ্যে ষড়যন্ত্রের দায় স্বীকার করেন। এ ছাড়া ৩৯ বছর বয়সী মাইকেল জোনস নামের আরেক ব্যক্তিকে গত মার্চে চুরির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। গত ১৩ জুন অক্সফোর্ডের আদালত এই দুই ব্যক্তিকে যথাক্রমে চার বছর ও দুই বছর তিন মাসের কারাদণ্ড দেন।
গত শুক্রবার অক্সফোর্ড ক্রাউন কোর্টে রায় ঘোষণার সময় বিচারক ইয়ান প্রিংগল কেসি এই চুরিকে ‘দুঃসাহসী ও নির্লজ্জ’ বলে অভিহিত করেন, যা সম্পন্ন করতে তাদের ‘মাত্র সাড়ে পাঁচ মিনিট’ সময় লেগেছিল।
বিবিসি জানায়, ইতালির কনসেপচুয়াল আর্টিস্ট মাউরিজিও কাত্তেলানের প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে ‘আমেরিকা’ শিরোনামের এই শিল্পকর্মটি প্রদর্শিত হয়। জিমি নামে পরিচিত জেমস শিন ছিলেন এই সোনার কমোড চুরির মূল হোতা। শিন একজন পেশাদার অপরাধী ও একমাত্র ব্যক্তি, যাকে চুরি ও সোনা বিক্রি উভয় অপরাধেই দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে তাঁর ডিএনএ ও তাঁর পোশাকে সোনার কণা খুঁজে পাওয়ার পর গত বছর তিনি দোষ স্বীকার করেন।
তদন্তের সময় পুলিশ শিনের ফোনও উদ্ধার করেছিল, যাতে প্রচুর সন্দেহজনক বার্তা ছিল বলে জানান এই মামলার সিনিয়র ক্রাউন প্রসিকিউটর শান সন্ডার্স। বিচারকদের সামনে ফ্রেড ডো নামে বার্কশায়ারের একজন ব্যবসায়ীকে পাঠানো শিনের ভয়েস ম্যাসেজ উপস্থাপন করা হয়। সন্ডার্স জানান, এসব বার্তার পাঠোদ্ধার করা ছিল খুবই জটিল একটি কাজ। কারণ প্রচুর কোডেড ভাষা, রোমানি স্ল্যাং ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়েছিল।
চুরির দুই সপ্তাহের মধ্যে শিন বার্মিংহামের এক অজানা ক্রেতার কাছে ৫ লাখ ২০ হাজার পাউন্ডে (বর্তমান বিনিময় মূল্যে ৭ লাখ ডলারের বেশি) ২০ কেজি সোনা বিক্রি করেন, যা ছিল ওই টয়লেটের ওজনের প্রায় এক‑পঞ্চমাংশ।
গত মার্চে বিবিসির এক অনুসন্ধানে শিনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানা যায়। দেখা যায়, ২০০৫ সাল থেকে তিনি কমপক্ষে ছয়বার কারাদণ্ড ভোগ করেছেন এবং সংগঠিত অপরাধ গ্রুপের নেতৃত্ব দিয়েছেন, যা প্রতারণা ও চুরি থেকে ৫ মিলিয়ন পাউন্ড আয় করেছিল। এর বেশির ভাগই কর্তৃপক্ষ উদ্ধার করতে পারেনি।
গত শুক্রবার আদালতে দণ্ড শোনার সময় দুজনের মধ্যেই কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।



