সাড়ে ৪ লাখ নারী উদ্যোক্তাদের স্বপ্ন বুনছেন যিনি

তিন অক্ষরের উদ্যোক্তা শব্দের ব্যাপ্তি অনেক। একটা সময় ছিল যখন উদ্যোক্তা হওয়ার মতো সাহস খুব কম মানুষই দেখতেন। কিন্তু এখন যুগ পাল্টেছে। এখন নারীরা স্বাবলম্বী, উদ্যোক্তা হয়ে আত্মনির্ভরশীল হচ্ছেন। পাশাপাশি পরিবারের দায়িত্বও নিচ্ছেন।

উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স ফোরামের (উই) প্রেসিডেন্ট নাসিমা আক্তার নিশা, যিনি নারীদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার স্বপ্ন দেখান। নিশার হাত ধরে ‘উই’ বেড়ে উঠছে। তাঁর দেখানো পথ ধরে উইয়ের নারী উদ্যোক্তারা শূন্য থেকে লাখপতি হচ্ছেন। কিন্তু নাসিমা আক্তার নিশার জন্য কাজটা খুব একটা সহজ ছিল না। কেন নারীদের নিয়ে কাজ করছেন, কীভাবে দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠিত করেন—এ নিয়ে ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালের সাথে তিনি কথা বলেছেন।

ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটাল: নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে স্বপ্ন কেন দেখেন?
নাসিমা আক্তার নিশা: উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করতে গিয়ে শুরুর দিকে আমি বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হই। তখন বুঝতে পারি আমার মতো আরও অনেক নারী উদ্যোক্তা আছেন, যারা প্রতিনিয়ত এই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। আমাকে এই সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। বাংলাদেশে সে সময় তেমন কোনো প্ল্যাটফর্ম ছিল না, যেখানে নারী উদ্যেোক্তারা তাঁদের সমস্যার কথা বলবেন। নিজের অভিজ্ঞতার জায়গা থেকে মনে মনে সিদ্ধান্ত নিই, সুযোগ পেলে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য কিছু করব।

ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটাল: আপনার জন্ম বা শৈশব কোথায় কেটেছে? 
নাসিমা আক্তার নিশা: আমার জন্ম, শৈশব, বড় হওয়া—সব ঢাকার বনানীতে। আমাদের পরিবার ছিল খুবই রক্ষণশীল। ছোটবেলা থেকে আমাদের পরিবারে শেখানো হয়, নারীদের চাকরি না করে গৃহিণী হতে হবে। নারীরা বেশি পড়ালেখা করতে পারবে না এবং খুব তাড়াতাড়ি বিয়ে দিতে হবে। আবার আমার শ্বশুরবাড়ির চিন্তা ছিল নারীরা পড়ালেখা করবে, কিন্তু বিয়ের পরে তারা চাকরি করতে পারবে না। বলা যায়, দুটি পরিবার ছিল মোটামুটি একি ঘরনার। তো সেই জায়গায় থেকে একটা সময় আব্বা আমাকে তাঁর ব্যবসার দেখার জন্য উৎসাহ দেন। ২০০৫ সালে আব্বার ব্যবসার কাজে নিজেকে যুক্ত করি। 

মেলায় পণ্য বিক্রি করছেন উইয়ের নারী উদ্যোক্তারা। ছবি: সংগৃহীত

ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটাল: উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স ফোরামের (উই) প্রেসিডেন্ট আপনি। উইয়ের যাত্রা এবং নাসিমা আক্তার নিশা হওয়ার পেছনের গল্পটা শুনতে চাই। 
নাসিমা আক্তার নিশা: ২০০৬ সালে বাবার কোম্পানির দায়িত্ব নিতে হয়। বাবার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গিয়ে নিজে কিছু একটা করার স্বপ্ন দেখি। একপর্যায়ে গিয়ে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সদস্য হই। শুরু হয় নতুন জায়গায় কাজের ক্ষেত্র। ই–ক্যাবের মূল কমিটিতে যখন থেকে কাজ শুরু করি, তখন উপলব্ধি করলাম, নারীদের জন্য ই–কমার্স খুবই উপযুক্ত একটি জায়গা।

সময়টা ছিল ২০১৫ সালের শুরুর দিকে। তখন খেয়াল করে দেখলাম, ক্যারিয়ার তৈরির পাশাপাশি আমি পরিবারে সময় দিচ্ছি। কিন্তু অনেক নারীকে দেখেছি, সংসারের কাজের চাপে চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন। তখন আমার কাছে মনে হয়, পরিবারে সময় দেওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু সংসারের পাশাপাশি নারীরা অর্থ উপার্জন করতে চাইলে কী করতে পারে—এটা ভাবতে থাকি। ই–কমার্স এই সমস্যার সমাধান হতে পারে। ঘরে বসে নারীরা যদি কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে পারে, তাহলে বিষয়টি খারাপ হয় না।

এরপর ২০১৭ সালে একবার দেশের বাইরে গেলাম। সে বছর বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তিতে যেসব নারী কাজ করেন, তাঁদের নিয়ে আমেরিকায় একটা প্রোগ্রাম হয়। সেই প্রোগ্রামে গিয়ে আমার চোখ খুলে যায়। এই অনুষ্ঠানে যাওয়ার পর আমার মাথায় আগে থেকে ঘুরতে থাকা চিন্তার দিকনির্দেশনা; অর্থাৎ, রাস্তা খুঁজে পাই। বিশ্বের বহু দেশের নারীরা এ অনুষ্ঠানে আসেন, তাঁদের উদ্যেোগে তৈরি পণ্য অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করেন। বিষয়টা মনে দাগ কাটে। কারণ সেখানে দেখলাম, যারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের মধ্যে কাজের একটা নেটওর্য়াক তৈরি হয়েছে। যেটা অদূর ভবিষ্যতে কাজে লাগবে। এই অনুষ্ঠানে গিয়ে আমার মনে হয়েছে, বাংলাদেশের নারীদের জন্য এমন কিছু করা দরকার। যেমন—এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা দরকার, যেখানে নারী উদ্যেোক্তারা নিজেদের স্বপ্ন নিয়ে কাজ করবে। তখন আমি ই–ক্যাবের ডিরেক্টর। সভাপতি ছিলেন রাজীব আহমেদ। তিনি আমাকে এই বিষয়ে অনেক উৎসাহিত করেন। এরপর ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে উই যাত্রা করে।

ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটাল: উদ্যোক্তা তৈরির শুরুর কাজটা কেমন ছিল? 
নাসিমা আক্তার নিশা: উইয়ের যাত্রার এক সপ্তাহের মধ্যে একটা কর্মশালার ব্যবস্থা করি। এই কর্মশালায় মূলত নারী উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আমরা অনেক উদ্যোক্তারা অনলাইনে পেজ তৈরি করি, কিন্তু জানি না কীভাবে পেজের লোগো তৈরি করব। আবার গ্রাফিক্স ডিজাইনার যে লোগো তৈরি করে দিলেন, তা নিয়ে মেলায় অংশগ্রহণ করতে গিয়ে দেখা যায়, সেই ইমেজ দিয়ে প্রিন্ট করা যায় না। ইমেজ ফেটে যায়। তখন আবার টাকা খরচ করে নতুন করে লোগোর জিজাইন করতে হয়। এভাবে অনেক জায়গায় কাজ করতে গিয়ে নারী উদ্যোক্তাদের টাকা শেষ হয়ে যায়। নারী উদ্যোক্তারা যদি এই ছোট ছোট বিষয়গুলো বুঝতে পারেন, তাহলে অনেক টাকা জমাতে পারেন। আমি ঠেকতে ঠেকতে এসব শিখে এই জায়গায় এসেছি। তাই বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের ধীরে ধীরে অনলাইনে মার্কেটিং, পণ্যের ফটোগ্রাফি, কনটেন্ট লেখাসহ বিভিন্ন কাজ শেখানোর চেষ্টা করি। 

২০১৯ সালে ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় উইয়ের প্রোগ্রাম করি। একসময় দেখলাম অফলাইনে মানে নিজে উপস্থিত থেকে প্রোগ্রাম করলে খরচ অনেক বেশি পড়ে। তাই আস্তে আস্তে চিন্তা করলাম এই কাজটা যদি ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারি, তাহলে নারী উদ্যোক্তাদের কাজ অনেক সহজ হবে। কিন্তু সেই সময় অনলাইনে সবাই অভ্যস্ত ছিল না। উইয়ের উদ্যোগে ২০১৯ সাল থেকে যেসব নারী উদ্যেোক্তা ভালো কাজ করেন, তাঁদের ‘জয়ী’ সম্মাননা দিয়ে থাকি। ফেব্রুয়ারি আর মার্চের মাঝামাঝি সময়ে কালারফুল ফেস্ট আর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সময়টাতে সামিটের আয়োজন করি। আমাদের উদ্যেোক্তারা কালারফুল ফেস্ট, আর সামিটের জন্য অপেক্ষা করে। 

ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটাল: উইয়ের প্ল্যাটফর্মে দেশীয় পণ্যকে প্রাধান্য কেন দিলেন?
নাসিমা আক্তার নিশা: উইয়ের উদ্যোগে কয়েকটা মেলা করার পর দেখলাম মেলায় বিদেশি পণ্যের আধিক্য। তাই ক্রেতারা দেশীয় পণ্য কিনতে চাইতেন না। দেশীয় পণ্য কিনছেন তখন, যখন শুনছেন পণ্যটি দেশের বাইরের। এই জায়গাটা আমার অনেক খটকা লাগে। ভাবলাম দেশীয় পণ্যের আলাদা অস্তিত্ব থাকা দরকার। তখন আমরা খুব দ্রুতই সিদ্ধান্ত নিলাম, উই প্ল্যাটফর্মে দেশের বাইরে পণ্য নিয়ে কেউ কাজ করতে পারবেন না। এতে যদি উদ্যোক্তারা চলে যান বা কেউ না থাকেন, তবুও আমরা বিদেশি পণ্য গ্রহণ করব না। দরকার হলে আমরা শূন্য থেকে শুরু করব। আনন্দের বিষয় ছিল—এই সিদ্ধান্তের পর উদ্যোক্তারা চলে যাননি; বরং আরও নতুন নতুন উদ্যোক্তা যুক্ত হতে থাকেন।

ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটাল: করোনা কি নারী উদ্যোক্তাদের জীবন পাল্টে দিয়েছিল?
নাসিমা আক্তার নিশা: কোভিডে সারা বিশ্বের মানুষ ঘরে বন্দি হয়ে গেল। এই সময় ই–লার্নিংয়ের কার্যক্রম শুরু করি। কোভিড সেই সুযোগটা করে দেয়। আমরা অনলাইনে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নারী উদ্যোক্তাদের যুক্ত করলাম। উইয়ের ফেসবুক গ্রুপে নারী উদ্যোক্তারা নিজেদের স্বপ্নের কথা লিখতেন। আস্তে আস্তে নারী উদ্যোক্তাদের উদ্যোগের পণ্য বিক্রি হতে শুরু করে। একপর্যায়ে গিয়ে দেখা যায় রান্না, সুঁই সুতো, ছবি আঁকতে পারা মানুষটি উদ্যোক্তা হিসেবে সুনাম অর্জন করছে। কিন্তু উদ্যোক্তা তৈরি হলে তো হবে না। তাদেরকে তো মার্কেটে টিকে থাকতে হবে। তা আমরা সে সময় জুমের মাধ্যমে কিছু কোর্স দেওয়া শুরু করি। আমার মনে অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল উদ্যোক্তাদের ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার। যেখানে উদ্যোক্তারা A থেকে Z পর্যন্ত সবকিছু শিখতে পারবে। একপর্যায়ে গিয়ে আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়।

ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটাল: নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করতে কেমন লাগে?
নাসিমা আক্তার নিশা: নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করতে অসম্ভব ভালো লাগে। এখন পর্যন্ত ক্লান্ত হইনি। এটা সবচেয়ে বড় কথা। যেদিন নিজেকে ক্লান্ত মনে করব, সেদিন থেকে আর কাজ করব না। উইয়ের পথচলা ৬ বছর, আমার নিজের জার্নি ১৭ থেকে ১৮ বছর। নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করে আনন্দ পাচ্ছি। সবচেয়ে বেশি ভালো লাগা কাজ করে, যখন নারী উদ্যোক্তাদের আমি চলার পথটা মসৃণ করে দিতে পারছি। আমার মনে হয়, আমি স্বার্থক। আমি দেখেছি আমার বাবাকে মানুষের জন্য কাজ করতে। বাবা মানুষের জন্য করে খুব আনন্দ পেতেন। আমিও সেই আনন্দটা পাই।

ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটাল: বর্তমানে উইয়ের ব্যাপ্তি সম্পর্কে বলবেন।
নাসিমা আক্তার নিশা: উই–এর যাত্রা হয় ২০১৭ সালে। এখন উই গ্রুপের সদস্য ১৪ লাখ ৪৭ হাজার। এর মধ্যে সাড়ে চার লাখ উদ্যোক্তা। উইতে ক্রেতা ও বিক্রেতা আছেন। এখন ৬৪ জেলার ৩০০ উপজেলা উইয়ের মনিটরিং টিম আছে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে উই এখন জাপান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাজ্যে দেশীয় নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য বিক্রি করছে। 

তবে, উইয়ের শুরুর দিকে নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ খুব একটা সহজ ছিল না। অনলাইন হওয়াতে কাজটা এগিয়ে নিতে অসুবিধায় পড়তে হয়। প্রযুক্তি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া মানুষের বিশ্বাস অর্জন করা ছিল অনেক বড় বিষয়। উই তার কাজ দিয়ে নারী উদ্যোক্তাদের মনে স্থান করে নিয়েছে। এটি আমার অনেক বড় প্রাপ্তি। 

ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটাল: নারী উদ্যোক্তাদের চ্যালেঞ্জ কী কী হতে পারে?
নাসিমা আক্তার নিশা: আমাদের দেশে নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে তাদের পরিবার বাধা হিসেবে কাজ করে। একজন নারী উদ্যোক্তা হয়ে যখন পবিরাবের দায়িত্ব নেন, তখনো তাঁকে শুনতে হয় অপমানজনক কথা। উই গ্রুপে নারী উদ্যোক্তার যুক্ত হওয়ার পর আস্তে আস্তে যখন তাদের উদ্যোগের পণ্য যখন বিক্রি হতে শুরু করে, তখন উদ্যোক্তাদের পরিবার মনে করে, যাকে এতদিন কথা শুনিয়েছিলাম সে তো পরিবারের জন্য অর্থ উপার্জন করছে। দেখা গেছে কিছু কিছু উদ্যোক্তার স্বামীও ডেলিভারিম্যান হয়ে কাজ করেন। কথায় বলে আকাশে চাঁদ উঠলে সবাই দেখতে পায়। তেমনি উদ্যোক্তারা যখন পরিবারের জন্য অর্থ উপার্জন করেন, তখন সবাই বুঝতে পারে উদ্যোক্তারা চাইলে অনেক কিছু করতে পারেন। 

পরিবারের পর উদ্যোক্তার বাধা হয়ে দাঁড়ায় অর্থ। সব উদ্যোক্তার কাছে কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমাণে অর্থ জমা থাকে না। যেটা দিয়ে উদ্যোগের কাজ শুরু করা যায়। এই জায়গায় নারী উদ্যোক্তারা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। এই ক্ষেত্রে আমি শুরুতে ঋণ নিয়ে কাজ শুরু করাটা পছন্দ করি না। নিজের জমানো টাকা কিংবা পরিবার থেকে টাকা সংগ্রহ করে নিজেদের উদ্যোগের কাজ শুরু করা দরকার। দিন শেষে পরিবারের মানুষই কিন্তু আপনজন। পরে ব্যবসায় লাভ হতে শুরু করলে সেই টাকা ফেরত দিতে পারা যায়। তবে ব্যবসার পরিধি যখন বাড়বে, তখন ঋণের প্রয়োজন হবে। সে সময় ঋণের জন্য ব্যাংকের কাছে যেতে হবে। 

উইয়ের নারী উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নাসিমা আক্তার নিশা। ছবি: সংগৃহীত 

এ ছাড়া ঢাকার বাইরের উদ্যোক্তারা কুরিয়ার সার্ভিসের সেবার ক্ষেত্রে বিশাল ঝামেলায় পড়েন। গ্রামের নারী উদ্যেোক্তারা কুরিয়ারের সঠিক সেবা পান না। এ ছাড়া উদ্যোক্তারা ঠিকমতো ইন্টারনেট সেবাও পান না, বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীরা। উদ্যোক্তাদের এসব সমস্যা সমাধানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। এ মন্ত্রণালয় থেকে ডাকঘরগুলোকে ‘স্মার্ট ডাকঘর’ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তারা বিশেষ সেবাও পাবেন এবং চাইলে তাঁরা সেখানে বসে কাজও করতে পারবেন। ইন্টারনেট সেবার জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বল্পমূল্যের ইন্টারনেট প্যাকেজ চালু করা হবে। এ ছাড়া এই মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে উপজেলা পর্যায়ে ওয়াইফাই সংযোগ চালু করা হবে। এতে নারী উদ্যোক্তারা নিজেদের উদ্যোগের কাজ সহজেই করতে পারবেন। 

ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটাল: এখন তো অনেক নারীই উদ্যোক্তা হচ্ছেন। নারী উদ্যোক্তাদের স্বপ্নের জায়গাটা কী হওয়া উচিত?
নাসিমা আক্তার নিশা: আমাদের দেশের নারীরা ব্যবসা করার ক্ষেত্রে উপযুক্ত পরিবেশ পাচ্ছেন না। কিছু দূর এগিয়ে গেলেও প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন। আমাদের দেশের নারীরা অনেক কিছু জানেন, কিন্তু প্রকাশ করতে পারেন না। আমাদের প্রকাশের ভাষাটা জানতে হবে। উদ্যোক্তা হিসেবে নারীদের একটা আলাদা সত্তা থাকা দরকার। আমি অমুকের মেয়ে, অমুকের স্ত্রী—এই পরিচয়ের বাইরে নিজের একটা পরিচিতি গড়ে তোলা প্রয়োজন। নারী উদ্যোক্তার স্বপ্নের জায়গাটা হওয়া উচিত তাঁর নিজস্ব পরিচয়–আমি একজন উদ্যেোক্তা।

ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটাল: উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়ে খেয়াল রাখা প্রয়োজন বলে মনে করেন?
নাসিমা আক্তার নিশা: প্রতিটা উদ্যোগের পেছনে নির্দিষ্ট একটা উদ্দেশ্য আর সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন। উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রে নিজের দক্ষতার ওপর আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। একজন উদোক্তাকে প্রথমে ধৈর্য্যশীল হতে হবে। অস্থির হওয়া চলবে না। ধৈর্য্যশীল হওয়া ছাড়া এ জায়গায় টিকে থাকা সম্ভব না। কারণ, উদ্যোগ শুরুর প্রথম বছরে মেনে নিতে হবে অর্থ উপার্জন হবে না। এই সময় মনকে শক্ত রাখতে হবে। অস্থির হওয়া চলবে না। আর ব্যালেন্স করতে শিখতে হবে। ব্যবসার কাজ আর পরিবারের কাজকে আলাদা করতে জানতে হবে। ব্যবসার জায়গা ব্যবসা আর পরিবারের জায়গায় পরিবার থাকবে। উদ্যোক্তাদের এই দুই জায়গায় ব্যালেন্স করা শিখতে হবে। 

ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটাল: আপনার প্রতিষ্ঠানের অর্জন বা কৃতিত্ব নিয়ে বলবেন। ভবিষ্য পরিকল্পনা কী? 
নাসিমা আক্তার নিশা: গত বছরের অক্টোবর মাসে উই দুই জায়গা থেকে সাফল্য অর্জন করে। একটা হলো—দেশে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ পুরস্কার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ পুরস্কার প্রদান করেন। আরেকটি হলো—বিদেশে ‘উইটসা অ্যাওয়ার্ড’। মালয়েশিয়ায় এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।  এই দুটি অর্জন উইয়ের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। এ ছাড়া কোভিডের সময় ‘অনন্যা অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছি। সে সময় এই পুরস্কার অনেক বড় পাওয়া মনে হয়েছে। উদ্যোক্তা সেক্টরে বাংলাদেশের নারীদের অনেক বড় জাগরণ ঘটেছে। এটাকে ধরে রাখতে হবে। ভবিষ্যতে বিশ্বের অনেক দেশে ইচ্ছে আছে উইয়ের শাখা করার। যেসব দেশে উইয়ের উদ্যোক্তারা পণ্য রফতানি করবে।