সাইবার অপরাধের শিকার নারীদের যা জানা জরুরি

বর্তমানে তথ্য–প্রযুক্তির বিভিন্ন দিকে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এতে যেমন সফলতা আসছে, তেমনি ব্যক্তি জীবনেও কেউ কেউ অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। সাইবার অপরাধ এমন একটি অপরাধ, যা কম্পিউটার এবং কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পর্কিত।

এখন প্রযুক্তির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলছে সাইবার অপরাধ। দেশের বা দেশের বাইরের বসে প্রযুক্তির মাধ্যমে যে কেউ এই অপরাধ সংঘটিত করছেন। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন নারীরা।

ইন্টারনেটের পরিধি এখন সর্বব্যাপী। সহজলভ্য ইন্টারনেট এখন মানুষের হাতের মুঠোয়। তারা খুব সহজেই ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। এতে স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ছে। আর এই স্মার্টফোনের সঙ্গে বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা। যেখানে বিভিন্ন আইডি হ্যাক করে অপরাধীরা নারীদের হুমকি দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে পর্নোগ্রাফির মতো ভয়াবহ কাজও হচ্ছে।

আমাদের দেশে সাইবার অপরাধের বেশিরভাগ ভুক্তভোগী হলেন নারীরা। ভুক্তভোগী নারীদের মধ্যে অনেকেই জানেন না এই বিষয়ে করণীয় কী? আবার অনেকে পরিবারের সম্মান ও সমাজের ভয়ে এসব বিষয়ে মুখ বন্ধ রাখেন।

তবে সাইবার নিরাপত্তা আইনের গুরুত্বপূর্ণ ধারা রয়েছে। চাইলে যে কোনো ভুক্তভোগী নারী সাইবার অপরাধে শিকার হলে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ব্যারিস্টার ইফফাত গিয়াস আরেফিন বলেন, ‘ইদানীং সাইবার অপরাধের প্রবণতা বাড়ছে। নারীরা এক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকিতে পড়ছেন। এ ধরনের অপরাধের শিকার ভুক্তভোগী নারীরা প্রাথমিকভাবে নিকটস্থ থানায় অভিযোগ করতে পারেন। বাংলাদেশে ২০০৬ সালে প্রথম সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ আইন (আইসিটি অ্যাক্ট) প্রণয়ন করা হয়। এরপর ২০১৩ সালে এই আইন সংশোধন করা হয়। এ আইনে কারো অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও তোলা এবং তা প্রকাশ করার অপরাধে ১০ বছর কারাদণ্ড এবং অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এই আইনের সঠিক ব্যবহারের ব্যাপারে সচেতন করার পাশাপাশি আইনের প্রয়োগ করা হলে সাইবার অপরাধ অনেকাংশে কমে যাবে।’

মূলত ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিরা ভুয়া আইডি খুলে নারীর ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে থাকেন। এরপর সেই ছবির মাধ্যমে ভুয়া আইডি খুলে বা আইডি হ্যাক করে ছবি বা ভিডিও বা ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেন।

ব্যারিস্টার ইফফাত গিয়াস আরেফিন মনে করেন, নারীরা তাৎক্ষণিকভাবে সাইবার হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে হটলাইন ‘৯৯৯’–এ ফোনও করতে পারেন। এর বাইরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন সেন্টারে গিয়েও সরাসরি কথা বলতে পারেন। এছাড়া ভুক্তভোগী নারীরা সরাসরি বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের অধীনে পরিচালিত Police Cyber Support for Women (PCSW) ইউনিটকে অভিযোগ জানাতে পারেন। তবে, অভিযোগ করার ক্ষেত্রে ফোনালাপের রেকর্ড, মেসেজের স্ক্রিনশট, বিভিন্ন আলামতের স্ক্রিনশট, লিংক, অডিও বা ভিডিও ফাইল সংগ্রহে রাখা দরকার।

পরিশেষে বলতে হয়, সাইবার অপরাধের শিকার হলে কোনোভাবেই ভয় পাওয়া যাবে না। সম্ভব হলে আপনার পরিবার বা কাছের মানুষদের বিষয়টি জানান। এ ক্ষেত্রে প্রমাণপত্র সংগ্রহে রাখতে হবে। এসব প্রমাণপত্র আইনগত কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।