‘রাস্তায় রিকশা চালানোর সময় মানুষ অনেক কটু কথা বলে’

সমাজে জীবনযুদ্ধ করে বেঁচে আছে অনেক নারী। হয়তো তাদের কষ্টের কথা আমাদের কান পর্যন্ত পৌঁছায় না। তথ্যপ্রযুক্তির এই উন্নতির যুগে তারা নীরবে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন।

তেমনি একজন ফিরুজা আক্তার। তিনি রাজধানীর পুরান ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।

একজন নারী হিসেবে রাস্তায় রিকশা চালানোর বিষয়টা আমাদের সমাজ খুব একটা ভালো চোখে দেখে না। সমাজের প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী, যানবাহন শুধু পুরুষরা চালাবে, আর এটাই যেন স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু একজন নারীও জীবিকার তাগিদে রিকশা চালাতে পারেন।

ফিরুজা আক্তার তেমনি একজন। জীবনের প্রয়োজনে তিনি রাজধানী ঢাকার রাস্তায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চালান।

ফিরুজা আক্তার কেরানীগঞ্জের খলিফাগড়ে বাস করেন। এক সময় একমাত্র আপনজন ছিল তাঁর মেয়ে। কিন্তু সে মেয়েরও বিয়ে হয়ে গেছে। মেয়ে থাকেন শ্বশুরবাড়িতে।

প্রায় ১৮ বছর আগে ফিরুজার স্বামী মারা যান। তখন থেকেই জীবনযুদ্ধে বেঁচে থাকার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে একমাত্র মেয়েকে লেখাপড়াও করাতে পারেননি। তাই কম বয়সে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেন।

গত চার বছর ধরে তিনি বাধ্য হয়ে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তাঁর আগে তিনি মানুষের বাসায় কাজ করতেন। যখন যে কাজ পেতেন, তখন সেটাই করতেন। রিকশা কেনার মতো সামর্থ্য না থাকাতে ভাড়ায় রিকশা চালান।

সকাল ৭টায় ফিরুজা রিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন, আর রাত ৮ টায় বাসায় ফেরেন। পুরান ঢাকার রাস্তায় তিনি ব্যাটারিচালিত রিকশা চালান। দিনে যা আয় করেন তা থেকে ৫০০ টাকা ভাড়া হিসেবে দিয়ে দেন। এমনও দিন যায়, যেদিন ফিরুজা আক্তার সারাদিন অনাহারে কাটান।

ফিরুজা আক্তার তার এই কষ্টকর জীবন নিয়ে বলেন, ‘নারী হিসেবে আমার এই পেশায় আসা অনেক কঠিন ছিল। কোনো আত্মীয়-স্বজন সেই সময় আমারে সাহায্য করে নাই। রাস্তায় রিকশা চালানোর সময় মানুষ অনেক বাজে কথা বলে। সেসব কানে শুনি, কিন্তু কি করমু? আমারে তো বাঁচতে হইবো। কেউ তো বসায়ে খাওয়াবে না। আমি চাই আমাদের সমাজের মেয়েরা শিক্ষিত এবং নিজে স্বাবলম্বী হোক।’

ফিরুজা আক্তার আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন করতে পারেননি। পাশাপাশি মেয়েকেও স্কুলে পাঠাতে  পারেননি। তবুও তার দৃষ্টিভঙ্গি সমাজে এক নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।