এ দেশে ‘আত্মহত্যা’ নতুন কোনো শব্দ নয়। হরহামেশাই আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটছে। কেউ হয়তো পারিবারিক অশান্তির কারণে আত্মহত্যা করছেন, আবার কেউ’বা সামাজিক কিংবা ব্যক্তিগত কারণে এই পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাই দেশের বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার মধ্যে আত্মহত্যা অন্যতম।
মানুষের মনে মানসিক যন্ত্রণা, হতাশা এবং অসহায়ত্বের এক মারাত্মক বহিঃপ্রকাশ হলো আত্মহত্যা প্রবণতা। বেসরকারি সংস্থা আঁচল ফাউন্ডেশন গত ১৮ জানুয়ারি আত্মহত্যা বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলন করে।
আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নারীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি ছিল। ২০২৪ সালে মোট ৩১০ জন আত্মহত্যা করেন, এর মধ্যে প্রায় ৬১ শতাংশ ছিল নারী।
আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি ছিল। ২০২৪ সালে আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৭ দশমিক ৭৪ শতাংশই ছিল বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের শিক্ষার্থী। এর মধ্যে নারী শিক্ষার্থীর হার ছিল ৬৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ।
মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) বাৎসরিক প্রতিবেদন থেকে হানা যায়, ২০২৪ সালে ১ হাজার ১৫১টি নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে আত্মহত্যা করেছেন ৪১৯ জন নারী।
মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) সিনিয়র আইনজীবী নাহিদ শামস্ বলেন, ‘বাংলাদেশের আইনে আত্মহত্যার প্রচেষ্টাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এবং সেই মোতাবেক শাস্তির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। কেউ আত্মহত্যার চেষ্টা করলে বা আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে স্বীয় শরীরের ওপর কোনো ধরনের আঘাত করলে তাকে পেনাল কোড ৩০৯ ধারা অনুসারে ১ বছর বা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। এ ছাড়া পেনাল কোড ৩০৬ ধারায় কেউ আত্মহত্যার প্ররোচনা দিলে, যদি সে ব্যক্তি আত্মহত্যা করে মৃত্যুবরণ করে, তাহলে প্ররোচনাদানকারীর শাস্তি পেনাল কোড ৩০৬ ধারা মোতাবেক ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং বিনাশ্রম বা সশ্রম কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।’
এই আইনজীবীর মতে, এমন অনেকেই আছেন, যাঁরা আত্মহত্যা করার আগে সুইসাইড নোট লিখে যান। বাংলাদেশের প্রচলিত সাক্ষ্য আইন ১৮৭২‑এর ৩২ ধারা অনুযায়ী, আত্মহত্যাকারীর রেখে যাওয়া সুইসাইড নোট প্ররোচনাদানকারীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে এ ক্ষেত্রে শুধু সুইসাইড নোটের ওপর ভিত্তি করে কাউকে শাস্তি দেওয়া যাবে না। সুইসাইড নোটের সমর্থনে আরও সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।