২০২৪ সালে আত্মহত্যাকারী মোট সংখ্যা ছিল ৩১০ জন। এই আত্মহত্যার প্রায় ৬১ শতাংশ ছিল নারী। এ মধ্যে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও রয়েছেন। ২০২৩ সালে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যা করেছিল ৫১৩ জন। ২০২২ সালে দেশে আত্মহত্যাকারী স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ছিল ৫৩২ জন।
বেসরকারি সংস্থা আঁচল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গত ১৮ জানুয়ারি ‘২০২৪ সালে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা: সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি’ বিষয়ক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সংবাদ সম্মেলনের এসব তথ্য জানানো হয়।
আঁচল ফাউন্ডেশনের ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ইউনিট’ এর সদস্যরা প্রতি বছর জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করে। এ বছরে আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আত্মহত্যার প্রবণতা নারীদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি। সংবাদ সম্মেলনে আঁচল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আত্মহত্যা প্রতিরোধে বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সায়েদুল ইসলাম সায়েদ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষক ড. মো. জামাল উদ্দীন, আইনজীবী ও লেখক ব্যারিস্টার নওফল জামির এবং আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জনাব তানসেন রোজ।
আঁচল ফাউন্ডেশনের গবেষণায় দেখা গেছে, আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৭.৭৪ শতাংশই বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের শিক্ষার্থী। এর মধ্যে নারী শিক্ষার্থীর হার ৬৫.৪৬ শতাংশ।
আঁচল ফাউন্ডেশনের সমীক্ষা থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালে আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে বয়ঃসন্ধিকালীন (১৩-১৯ বছর) কিশোর–কিশোরীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশি। ২০২৪ সালের মোট আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে প্রায় ৬৫.৭ শতাংশ এ বয়সসীমার মধ্যে রয়েছে। আত্মহত্যার তালিকায় এর পরই রয়েছে ২০-২৫ বয়সসীমা যুবক-যুবতীরা।
প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, এসএসসি বা সমমান অর্থাৎ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। ২০২৪ সালে আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে ৪৬.১ শতাংশ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থী। এর পরই উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের অবস্থান। এ হার ১৯.৪ শতাংশ। স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। এ হার ছিল ১৪.৬ শতাংশ । এছাড়া প্রাথমিক স্তরে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আত্মহননের বিষয় লক্ষ্য করা গেছে। এ স্তরের ৭.৪ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে।
সংবাদ সম্মেলনে আঁচল ফাউন্ডেশনের সভাপতি তানসেন রোজ বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্য সংকট নিয়ে আমাদের পরিবার, সরকার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সচেতন নয়। আত্মহত্যা একটি নীরব ব্যাধি। যার পরিবারের কেউ আত্মহত্যা করে, শুধু সে পরিবার এর মর্ম বুঝতে পারে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, আমরা যদি এখনই সচেতন না হই, কাল হয়ত আপনার পরিবারেও এই ব্যাধি ঢুকে যাবে। এবং আপনার পরিবারের যে কাউকেই গ্রাস করতে পারে।’
তানসেন রোজ আরও বলেন ‘জুলাই বিপ্লবের প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে ইতোমধ্যে আমরা বিভিন্ন ধরনের সমস্যা লক্ষ্য করেছি। আহতদের অনেকেই পিটিএসডিতে ভুগছেন। শিক্ষার্থীদের মাঝে আক্রমণাত্মক হওয়ার মত মনোভঙ্গি দেখা যাচ্ছে। অনেকেই ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। পড়াশুনায়ও মনোযোগী হতে পারছেন না। আমাদের এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে।



