ঢাকায় ওয়াও ফেস্ট

নাচ, সংলাপ ও শিল্পে নারীর জীবনকথা

নাচ, শিল্পকর্ম, আলোকচিত্র ও আলোচনার মধ্য দিয়ে নারীর জীবন, অভিজ্ঞতা ও আত্মপরিচয়ের নানা গল্প উঠে এসেছে ঢাকায় আয়োজিত ‘ওম্যান: দ্য ওয়াও ফেস্ট’-এ। গত শুক্রবার রাজধানীর আলোকিতে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ (ওয়াও) বাংলাদেশ ২০২৬-এর সহযোগিতায় উৎসবটি আয়োজন করে সাধনা ও নৃত্যশিল্পী ফাউন্ডেশন। ‘রিমেম্বারিং মেমোরিজ, রিক্লেইমিং বডিজ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী, তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষ অংশ নেন।

দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া আয়োজনে ছিল শিল্পপ্রদর্শনী, অংশগ্রহণমূলক আর্ট ইনস্টলেশন, খাবারের স্টল ও উন্মুক্ত আলোচনা। শিল্পী ইশরাত রউফের শিল্পকর্ম ‘বহুরেখা’ তৈরিতেও অংশ নেন দর্শকেরা। নিজেদের স্মৃতি, পরিচয় ও জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে তাঁরা শিল্পকর্মটি নির্মাণে অবদান রাখেন।

বিকেলে ছিল বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও উপস্থাপনা। শারীরিক স্বাধীনতা, শৈশব, সামাজিক প্রত্যাশা ও আত্মপরিচয়ের মতো বিষয় উঠে আসে এসব আয়োজনে।

অনুষ্ঠানে শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী, তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষ অংশ নেন। ছবি: সংগৃহীত

বিকেল ৪টা থেকে মঞ্চস্থ হয় চারটি দলগত নৃত্যনাট্য। এসব পরিবেশনায় জনজীবনে নারীর অংশগ্রহণ, লৈঙ্গিক ধারণা, ক্ষমতার কাঠামো, বাস্তুচ্যুতি, প্রতিকূলতা মোকাবিলা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মতো বিষয় তুলে ধরা হয়।

নৃত্যনাট্যগুলোর মধ্যে ছিল পুরুষতান্ত্রিকতা ও নারীবাদ নিয়ে ‘উইমেনস পলিটিক্স অ্যান্ড উইমেন ইন পলিটিক্স’, পুঁজিবাদ, ভোগবাদ ও নারীদেহ নিয়ে ‘ইনসাইড দ্য লাইন’, বিশ্বাস, নারীবাদ ও ধর্মীয় রাজনীতি নিয়ে ‘ডিড গড সে দিজ থিংস?’ এবং যুদ্ধ, সংঘাত, দেশত্যাগ ও নারীবাদ নিয়ে ‘আফটার দ্য সাইলেন্স’।

এ ছাড়া ‘ফ্রম স্কোর টু স্টেজ’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারীদের সৃজনশীল কাজ ও আয়োজনের বিভিন্ন মুহূর্ত তুলে ধরা হয়।

সাধনার আর্টিস্টিক ডিরেক্টর লুবনা মারিয়াম বলেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা কারও অজানা নয়। তবুও আমি আশাবাদী। আমরা নারীরা অসহায় নই; আমরা সব সময় নিজেদের জন্য লড়াই করে এসেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রচেষ্টায় আমাদের সহযোগিতা করার জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। তবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে আমাদের এখনো অনেক পথ বাকি।’

আয়োজকেরা জানান, শিল্পী ও দর্শকদের একসঙ্গে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও মতামত ভাগ করে নেওয়ার একটি পরিসর তৈরি করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে শিল্প ও সংস্কৃতির মাধ্যমে বিভিন্ন মানুষের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়ানো এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।