নেপাল ও তিব্বতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫৯ জনে। এছাড়া ৮০০ এর বেশি বিদেশি পর্যটকসহ এখনও নিখোঁজ প্রায় দেড় হাজার মানুষ। তাদের মধ্যে ভারতের ১৭৮, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫, মালয়েশিয়ার ৫৫, ইউক্রেনের ৫৩, অস্ট্রেলিয়ার ৩৫ এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন ছাড়াও রয়েছে অন্যান্য দেশের নাগরিক। এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার একাংশ পরিদর্শন করে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ।
ছিল না কোনো পূর্ব সতর্কতা। হঠাৎ চীনের দিক থেকে পানির তীব্র স্রোত নেমে আসে ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী ট্রেকিং রুট ও জনপদগুলোতে। কাদা আর ধ্বংসাবশেষে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় একের পর এক গ্রাম। ধ্বংস হয় ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও অবকাঠামো। বুধবার এ দৃশ্য যেনো সিনেমার দৃশ্যকে হার মানায়।
নেপালের কয়েক দশকের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাণঘাতী দুর্যোগগুলোর এটি একটি। ড্রোন-স্যাটেলাইট ছবিতেও সেই ভয়াবহতা স্পষ্ট।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রসুয়া ও নুয়াকোট জেলার কয়েকটি এলাকা। এখনও নিখোঁজ ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউক্রেন, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল ও অস্ট্রেলিয়ার কয়েকশ নাগরিক।
উদ্ধার তৎপরতায় মোতায়েন করা হয়েছে নেপালের ২ হাজার সেনা সদস্য। দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বন্যার স্রোতে সড়ক, সেতু ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।
হঠাৎ বন্যায় তিব্বতের জিরোং এলাকাতেও ভেঙে পড়েছে ভবন ও সড়ক। সেখানেও চলছে উদ্ধার অভিযান। এদিকে, নেপাল ও চীনে ভয়াবহ বন্যায় হতাহত ও ধ্বংসযজ্ঞে গভীর শোক জানিয়েছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, ‘নেপালে জাতিসংঘ ও মানবিক সহায়তাকারী সংস্থাগুলো সরকারের নেতৃত্বে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে চিকিৎসা সামগ্রী, তাঁবু ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়ে মাঠে পৌঁছেছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, ইউনিসেফসহ অন্যান্য সংস্থাও ত্রাণ সহায়তা পাঠাচ্ছে।’
নিখোঁজদের উদ্ধারে বাংলাদেশের পাশাপাশি সহায়তায় প্রস্তুত বিভিন্ন দেশ। পাঁচ লাখ ডলার সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গিরং এলাকায় প্রায় ৬০০ উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করেছে চীন। সহায়তায় প্রস্তুত ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারত। বিশেষ উদ্ধারদল পাঠিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগ মোকাবিলায় সীমান্তবর্তী আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।