হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী পার্বত্য অঞ্চল। ধ্বংস হয়েছে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র। চলছে উদ্ধার অভিযান, নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্তদের। তবে উজানের দুটি হ্রদের পানি পুরোপুরি নেমে না যাওয়া পর্যন্ত বন্যার ঝুঁকি থাকায় কাটছে না উদ্বেগ।
প্রতিদিন সকালে ঘুম ভাঙে, কিন্তু নতুন দিনের আলোয় স্বস্তি আসে না। চোখের সামনে ভেসে ওঠে ধ্বংসস্তূপ, কাদায় ডুবে থাকা পথ আর হারিয়ে যাওয়া পরিচিত মুখগুলো। প্রায় ৫০ বছর ধরে যে জায়গাটিকে নিজের ঘর বলে জেনে এসেছেন, এখন সেই জায়গাটিই যেন অচেনা।
এই নির্মম বাস্তবতার শিকার ৬৭ বছর বয়সী বাল বাহাদুর ঘালে। বিপদ আঁচ করতে পেরে সময় নষ্ট না করে পরিবারের সবাইকে দ্রুত উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেন। সেই সিদ্ধান্তই হয়তো বাঁচিয়ে দিয়েছে তাদের। কিন্তু এই কয়েক মুহূর্তেই বদলে গেছে তার জীবনের সব হিসেব।
বাল বাহাদুর ঘালে বলেন, ‘বন্যার পানি যখন আসতে শুরু করল, আমি ভালো করে তাকিয়ে দেখলাম ধোঁয়ার মতো পানি ওপরের দিকে ছুটছে। দ্রুত পরিবারের সবাইকে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিতে বললাম। পানির স্রোত বাড়তে থাকলে আমরা আরও উঁচু জায়গা খুঁজে সেখানে চলে যাই।’
বেঁচে যাওয়ার আনন্দের সঙ্গেও মিশে আছে হারানোর ভার। একটি দুর্যোগ থামার পর শুরু হয় আরেক যুদ্ধ, তা হলো ফিরে আসার যুদ্ধ। অর্থের হিসেবের বাইরেও রয়েছে হারিয়ে যাওয়া মানুষ, ভেঙে যাওয়া পরিবার, আর ঘর হারানো মানুষের ভবিষ্যতের হিসেবে।
বন্যার এই তাণ্ডবের পর জোর কদমে চলছে উদ্ধারকাজ। নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে মানুষজনকে। কারণ হিমালয়ের এই বিপর্যয়ের ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে। হিমবাহ থেকে তৈরি দুটি হ্রদের পানি পুরোপুরি নেমে না যাওয়া পর্যন্ত বন্যার আশঙ্কা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ত্রিশুলির কাদামাখা পথ ধরে যারা এখন হাঁটছেন, তারা শুধু একটি বন্যার পরবর্তী পরিণতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন না। তাদের পায়ের নিচে জমে আছে তাদের পুরোনো জীবনের ধ্বংসাবশেষ। জীবন যেন আবার শুরু করতে হচ্ছে শূন্য থেকে।