বোয়িং উড়োজাহাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা জশুয়া মারা গেছেন 

মার্কিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের এক যন্ত্রাংশ সরবরাহকারীর বিরুদ্ধে ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ উৎপাদনে ক্রটি পাত্তা না দেওয়ার অভিযোগ তোলা জশুয়া ডিন মারা গেছেন। তাঁর পরিবার ও আইনজীবী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।  

জশুয়া স্পিরিট অ্যারোসিস্টেমের সাবেক কর্মী। তিনি অভিযোগ তোলার পর তাঁকে চাকুরিচ্যুত করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেছিলেন। 

ডিনের আইনজীবী ব্রায়ান নলেস জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেলের মৃত্যুতে এভিয়েশন খাতে গভীর শুন্যতা তৈরি হয়েছে। 

নলেস আল–জাজিরাকে বলেন, ‘নিরাপত্তা এবং মানের প্রশ্নে তিনি যা সত্য ও সঠিক মনে করেছেন তার পক্ষে সাহসী আওয়াজ তুলেছেন। এ ধরনের ব্যক্তিদের এভিয়েশন প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎসাহ ও প্রণোদনা দেওয়া উচিত। নাহলে নিরাপত্তা এবং মান এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব বহন করে না। 


স্পিরিট অ্যারোসিস্টেম জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি ডিনের পরিবারের পাশে আছে। প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘এই খবর স্পিরিটে তাঁর প্রিয় মানুষদের কাছে গভীর এক ধাক্কা।’ 

ডিনের মা গত মাসে তার ফেসবুকে জানিয়েছিলেন, স্ট্রোকের পর এমআরসিএ সংক্রমণের কারণে তাঁর ছেলে ‘জীবনের জন্য লড়ছে।’

ডিনের মৃত্যুর খবর প্রথম প্রকাশ করা সিয়াটল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিনের বয়স হয়েছিল ৪৫। তিনি সুস্বাস্থ্যের অধিকারি ছিলেন এবং সুস্থ্য জীবনযাপনের জন্য পরিচিত ছিলেন। 

প্রায় দুই মাস আগে বোয়িংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা আরও এক অভিযোগকারীর মৃত্যু হয়। আমেরিকার সাউথ ক্যারোলিনা কর্তৃপক্ষ জানায়, জন বারনেটকে তাঁর অ্যাপার্টমেন্টে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। কর্তৃপক্ষ সে সময় জানিয়েছিল, তিনি নিজেই নিজের মাথায় গুলি চালিয়েছেন।   

৬২ বছর বয়সী বারনেটের আইনজীবীরা জানান, তিনি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। 
 
গত জানুয়ারিতে ৭৩৭ ম্যাক্স ৯ মডেলের উড়োজাহাজের দরজায় বিস্ফোরণের পর থেকে স্পিরিট অ্যারোসিস্টেম নজরদারিতে রয়েছে। আলাস্কা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ১২৮২তে ঘটনা এ দুর্ঘটনার বিষয়ে বেশ কয়েকটি তদন্ত চলছে। এই ঘটনার পর বোয়িংয়ের নিরাপত্তা মান নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। 

ডিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) কাছে স্পিরিটের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কারখানায় যন্ত্রাংশের মান সঠিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে না।  

ডিনি মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনপিআরের কাছে গত ফেব্রুয়ারিতে দাবি করেছিলেন, সত্য প্রকাশের জন্য তাকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। তিনি উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘তুমি বেশি জোরে কথা বললে, আমরা তোমাকে স্তব্ধ করে দেব।’ 

বোয়িংয়ের তৈরি উড়োজাহাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা ব্যক্তিদের মধ্যে জশুয়া এবং বারনেটের মতো আরও অনেকেই আছেন। সম্প্রতি ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের কারিগরি ত্রুটির কথা সামনে এনে আলোচিত হয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক প্রকৌশলী স্যাম সালেহপর। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের কাছে তিনি দাবি করেছেন, ‘উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে উড়োজাহাজগুলোর অনেকগুলো ক্রটিকে পাত্তা দেওয় হয়নি।’  

আর ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের উড়োজাহাজগুলো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সংকটে আছে বোয়িং। প্রায় ৫ বছর ধরেই এই মডেলের উড়োজাহাজগুলো নিরাপত্তাজনিত সমস্যায় ভুগছে। এর মধ্যে ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের দুটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ৩৪৬ জন মারা যান। 

আর সম্প্রতি একটি উড়োজাহাজের দরজায় বিস্ফোরণের ঘটনার পর এই মডেলের অনেকগুলো উড়োজাহাজকে গ্রাউন্ডেড করা হয়। এতে বোয়িংয়ের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩১ বিলিয়ন ডলার। প্রতিষ্ঠানটি থেকে সরে গেছেন প্রধান নির্বাহী ডেভ কালাহন।

ম্যাক্স মডেলের উড়োজাহাজগুলো গ্রাউন্ডেড করার কারণে গত তিন মাসে প্রায় ২০ লাখ ডলার ক্ষতির কথা জানিয়েছে মার্কিন বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইনস।