কয়েকটি ‘অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ’ যন্ত্রাংশের সরবরাহে ঘাটতি থাকায় ৭৮৭ ড্রিমলাইনার মডেলের উড়োজাহাজের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে মার্কিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং। গত সোমবার নর্থ ক্যারোলাইনায় ড্রিমলাইনারের কারখানায় প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ব্যবস্থাপক স্কট স্টকার কর্মীদের এমন তথ্যই জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
২০২২ সালের মাঝামাঝি থেকে বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের উৎপাদন বৃদ্ধির চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোয়িং কর্মীদের কাছে দেওয়া এক বার্তায় স্কট স্টকার বলেন, ‘উৎপাদন ব্যবস্থার উন্নতি করতে আমদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। উৎপাদন এবং সরবরাহ কমে যাওয়ার শঙ্কার কথা আমরা এরই মধ্যে আমাদের ক্রেতাদের জানিয়েছি।’
ব্যাপক চাহিদা থাকায় প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে উৎপাদন বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা করেছে বলেও জানিয়েছেন স্কট।
গত জানুয়ারিতে বোয়িং জানান, গত বছরে প্রতিমাসে গড়ে ৫টি করে ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ উৎপাদন হয়েছে। এ বছরে প্রতিমাসে গড়ে ১০টি করে উড়োজাহাজ উৎপাদনের লক্ষ্য রাখা হয়েছিল।
এমনিতেই ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের উড়োজাহাজ নিয়ে সংকটে আছে বোয়িং। গত প্রায় ৫ বছর ধরেই এই মডেলের উড়োজাহাজগুলো নিরাপত্তাজনিত সমস্যায় ভুগছে। এর মধ্যে ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের দুটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ৩৪৬ জন মারা যান। সম্প্রতি একই মডেলের একটি উড়োজাহাজের দরজায় বিস্ফোরণের ঘটনা হয়।
এই ঘটনাগুলোর কারণে এই মডেলের অনেকগুলো উড়োজাহাজকে গ্রাউন্ডেড করা হয়েছে। এতে বোয়িংয়ের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩১ বিলিয়ন ডলার। প্রতিষ্ঠানটি থেকে সরে গেছেন প্রধান নির্বাহী ডেভ কালাহন।
ম্যাক্স মডেলের উড়োজাহাজগুলো গ্রাউন্ডেড করার কারণে গত তিন মাসে প্রায় ২০ লাখ ডলার ক্ষতির কথা জানিয়েছে মার্কিন বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইনস।

এর মধ্যে সম্প্রতি বোয়িংয়ের এক সাবেক প্রকৌশলী ৭৮৭ ড্রিমলাইনার মডেলের উড়োজাহাজগুলোতে কারিগরি ত্রুটির অভিযোগ তোলেন। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ত্রুটির কথা তুলে ধরে প্রকৌশলী স্যাম সালেহপর সারা বিশ্বে বিভিন্ন এয়ারলাইনসের কাছে থাকা ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজগুলো গ্রাউন্ডেড করার পরামর্শ দিয়েছেন।
স্যাম সালেহপরের দাবি, উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে উড়োজাহাজগুলোর অনেকগুলো ক্রটিকে পাত্তা দেয়নি বোয়িং। তিনি বলেন,
বিভিন্ন এয়ারলাইনসের কাছে থাকা বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজগুলো নিরাপত্তা পরীক্ষণের জন্য গ্রাউন্ডেড করা উচিত।
সালেহপর মার্কিন টেলিভিশন এনবিসিকে বলেছেন, ‘আমি যতটুকু জানি, ড্রিমলাইনারের পুরো বহরের দিকে এখন নজর দেওয়া উচিত।’
অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে বোয়িং।
২০০৩ সালে বোয়িং জ্বালানি সাশ্রয়ী উড়োজাহাজ উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ২০০৪ সালের ২৬ এপ্রিল প্রকল্পটি শুরু হয়। এ সময় জাপানের অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ ৫০টি উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ দেয়। ২০০৭ সালের ৮ জুলাই ৭৮৭ মডেলের প্রথম উড়োজাহাজটি প্রস্তুত হয়। মডেলটি প্রথম ফ্লাইট ছিল ২০০৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর। তবে প্রথম ড্রিমলাইনার মডেলটি সরবরাহ করা হয় ২০১১ সালে। আর এটির বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হয় একই বছরের ২৬ অক্টোবর থেকে।
বর্তমানে সারা বিশ্বের বিভিন্ন এয়ারলাইনসের কাছে এক হাজারের বেশি ড্রিমলাইনার মডেলের উড়োজাহাজ রয়েছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমানের কাছেও এই মডেলের ৬টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এগুলো দিয়ে বিমান মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও কানাডায় ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে।


বোয়িংয়ের ড্রিমলাইনার গ্রাউন্ডেড করার পরামর্শ সাবেক প্রকৌশলীর 
