ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতার ঘোষণা এলেও এর মধ্যেও রয়েছে দোলাচল। আর এই অচলাবস্থার সবচেয়ে বড় চাপ এসে পড়েছে হোয়াইট হাউজের ওপর। পররাষ্ট্রনীতি ও অভ্যন্তরীণ সব ইস্যু নিয়েই হোয়াইট হাউজের জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
ইরান যুদ্ধ একশ দিন পার হলেও স্থায়ী শান্তি চুক্তি এখনো হয়নি। এই সময়ে একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হলেও প্রতিবারই তা ভেঙে গেছে। ফলে এই পুরো সংকটের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চাপ এখন হোয়াইট হাউজের ওপর কেন্দ্রীভূত।
হোয়াইট হাউজ প্রকাশ্যে দাবি করছে, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং কূটনৈতিকভাবে ইরানকে আলোচনায় আনতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা — যুদ্ধ বন্ধে ব্যর্থতা এবং কার্যকর চুক্তি না আনতে পারা ওয়াশিংটনের কৌশলগত সীমাবদ্ধতাকে স্পষ্ট করে তুলছে।
এই অবস্থায় হোয়াইট হাউজের আরেকটি বড় সংকট হলো বিশ্বাসযোগ্যতা। যুদ্ধবিরতি বা নিয়ন্ত্রণের যে বার্তা দেওয়া হচ্ছে, তা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে বারবার সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ছে। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার সক্ষমতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
সবচেয়ে বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে একাধিক ফ্রন্টে একসঙ্গে চাপ সামলাতে গিয়ে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরানের সঙ্গে মৌলিক মতবিরোধ এখনো অমীমাংসিত। অন্যদিকে লেবানন পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনায় মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার চিত্র ভিন্ন।
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ যেমন বাড়ছে, তেমনই মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা হোয়াইট হাউজের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকিও তৈরি করছে। সব মিলিয়ে একশ দিন পর পরিস্থিতি স্পষ্ট করেছে, যুদ্ধ শুরু করা যতটা সহজ ছিল, তা শেষ করা হোয়াইট হাউজের জন্য ততটাই কঠিন হয়ে উঠেছে।