নতুন প্রধানমন্ত্রী শপথ নেওয়ার পরদিনই গ্রেপ্তার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী

শুক্রবার নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন এক সময়ের জনপ্রিয় র‍্যাপার এবং রাজধানী কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বালেন্দ্র শাহ। এর একদিন পর আজ শনিবার গ্রেপ্তার হলেন গত বছর তীব্র জনঅসন্তোষের মুখে ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। 

শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে অলি সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী জেন-জি বিক্ষোভে দু’দিনেই নিহত হন ৭৬ জন। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এই সহিংসতা রোধে কেপি শর্মা অলি অবহেলা করেছেন কি না- সেটাই তদন্ত করে দেখতে নেপালের পুলিশ।

গত বছরের গণআন্দোলনে সংঘটিত ওই সহিংসতার ঘটনা পর্যালোচনা করে কেপি শর্মা অলিকে অভিযুক্ত করার সুপারিশ করেছে নেপালের একটি তদন্ত প্যানেল।

চলতি সপ্তাহেই প্যানেলটি তাদের প্রতিবেদন দাখিল করেছে। প্যানেলের মতে, বিক্ষোভ দমনে রক্তক্ষয়ী অভিযান বন্ধ করতে কেপি শর্মা অলি ব্যর্থ হয়েছেন। পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের সহিংসতায় ৭৬ জনের মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

শনিবার কেপি শর্মা অলির পাশাপাশি গ্রেপ্তার হয়েছেন তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক। এই দুই নেতার আটক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী। 

তাঁদেরকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া প্রসঙ্গে অলি’র দলের জ্যেষ্ঠ নেতা মিন বাহাদুর শাহি রয়টার্সকে জানান, ‘আজ সকালে তারা (পুলিশ) অলিকে তার বাসভবন থেকে নিয়ে গেছে।’ 

উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে অলি সরকারের পতনের পর সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এই সরকারের অধীনেই গত ৫ মার্চ নেপালে অনুষ্ঠিত হয় সাধারণ নির্বাচন। 

নির্বাচনে তরুণদের বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ’র নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। নেপালের ২৭৫ আসনের পার্লামেন্টে তাঁর দল আরএসপি পেয়েছে ১৮২টি আসন। 

এবারের নির্বাচনে রীতিমতো ভরাডুবি হয় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউনিফায়েড মার্ক্সিস্ট-লেলিনিস্ট) দলটির। এমনকি নিজের আসনটিতেও অলি নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্রের কাছে সরাসরি বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, রাজনীতিতে আসার আগে বালেন্দ্র শাহ একজন র‍্যাপার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরে কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তরুণদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, বালেন্দ্র শাহ’র উত্থান নেপালের রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের শক্তিশালী উপস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।