জনপ্রিয় র্যাপার থেকে এবারে নেপালের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন বালেন্দ্র শাহ। যদিও রাজনীতিতে একেবারে নতুন নন ‘বালেন’ নামে সুপরিচিত রাজধানী কাঠমান্ডুর সদ্য সাবেক এই মেয়র। তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বালেন শাহ’র এগিয়ে থাকার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে গত বছর তরুণ প্রজন্মের 'জেন-জি' সরকার পতনের আন্দোলন।
গত বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চলেছে বালেনের নেতৃত্বাধীন 'রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি' (আরএসপি)। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আরএসপি ১৬৫টি সরাসরি আসনের মধ্যে ১২২টিতে জয় নিশ্চিত করেছে। আরও তিনটি আসনে তারা এগিয়ে রয়েছে।
অর্থাৎ, এটা নিশ্চিত যে, মাত্র তিন বছর আগে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের সাবেক নির্বাহীর হাত ধরে গঠিত হওয়া আরএসপি এবারের নির্বাচনে একক দল হিসেবেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। নেপালের মিশ্র নির্বাচনী ব্যবস্থায় সাধারণত কোনো দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারে না, কিন্তু এবার বালেন শাহ-র নেতৃত্বে তা-ই করতে চলেছে আরএসপি।
এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘটনা হলো ঝাপা-৫ আসনের লড়াই। সেখানে ৩৫ বছর বয়সী বালেন শাহ সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন নেপালের চারবারের প্রধানমন্ত্রী ৭৪ বছর বয়সী কেপি শর্মা অলির বিরুদ্ধে। ফলাফলে দেখা যায়, বালেন শাহ ৬৮ হাজার ৩৪৮ ভোট পেয়ে অলিকে (১৮ হাজার ৭২৪ ভোট) বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। পরাজয় মেনে নিয়ে কেপি শর্মা অলি বালেনকে অভিনন্দন জানিয়ে তার পাঁচ বছরের মেয়াদের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করা এবং কর্মসংস্থানের অভাবের প্রতিবাদে নেপালে ছাত্র-জনতার আন্দোলন শুরু হয়। সেই আন্দোলনে সরকারি বাহিনীর গুলিতে ৭৭ জন প্রাণ হারান। তীব্র প্রতিবাদের মুখে তৎকালীন ওলি সরকার পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। সেই আন্দোলনের সময় থেকেই তরুণ প্রজন্মের কাছে বালেন শাহ এক আস্থার প্রতীকে পরিণত হন।
পেশায় প্রকৌশলী বালেন শাহ মূলত একজন জনপ্রিয় র্যাপার হিসেবে পরিচিতি পান, যার গানে দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ প্রকাশ পায়। ২০২২ সালে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হন। মেয়র হিসেবে শহরের আবর্জনা পরিষ্কার এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে তাঁর বলিষ্ঠ ভূমিকা সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।
আরএসপি নেতা রমেশ পৌডিয়াল এই জয়কে ‘আশা ও পরিবর্তনের বিজয়’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বালেন শাহ-র সামনে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে পুরোনো আমলাতন্ত্রের সাথে মানিয়ে নেওয়া, দুর্নীতিবাজ নেতাদের বিচার করা এবং ভারত ও চীনের মতো শক্তিশালী প্রতিবেশীদের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখা হবে তার জন্য বড় পরীক্ষা।
নির্বাচনী সনদ নিতে এসে কালো চশমা ও ব্লেজার পরা বালেন শাহ একটি ব্যানার তুলে ধরেন, যেখানে লেখা ছিল, ‘আপনাদের সবাইকে অভিনন্দন, এটি আপনাদেরই জয়।’
নেপালের সাধারণ মানুষ এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে তাদের প্রিয় 'বালেন দাই' (বালেন ভাই) কীভাবে হিমালয় কন্যা নেপালকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান, তা দেখার জন্য।



