নেপাল-তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ৯৮, নিখোঁজ ৫ শতাধিক

নেপাল ও তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপালে ৯৫ ও তিব্বতে ৩ জন নিহত হয়েছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, ৩৮৪ জন পর্যটক এখনও নিখোঁজ রয়েছে। এদের মধ্যে ১০৫ ভারতীয় ও ২৯১ জন বিদেশি। আর ৯৩ জন নেপালের নাগরিক। একইসাথে তিব্বতের জিরোং এলাকায় এখনও নিখোঁজ ২৬৫ জন।

হঠাৎ নেমে আসা কাদা, পাথর আর পানির স্রোতে লণ্ডভণ্ড নেপালের ভোতে কোশী নদী তীরের জনপদ। হড়কা বানে ভেসে গেছে বসতবাড়ি, বিধ্বস্ত সড়ক ও সেতু। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। 

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রসুয়া ও নুয়াকোট জেলার কয়েকটি এলাকা। এরই মধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে বেশকিছু মরদেহ। আশঙ্কা করা হচ্ছে ধ্বংসস্তূপ আর কাদার নিচে এখনো আটকে আছে অনেকে।  

উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে নেপালের সেনাবাহিনী ও পুলিশ। বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে অনেক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নির্ভর করতে হচ্ছে হেলিকপ্টারের ওপর।

বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নিখোঁজ পর্যটকদের নিয়ে। তিব্বতের কৈলাস মানস সরোবরগামী রুট এই এলাকা দিয়ে গেছে। কয়েকশ পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে রয়েছে ভারতীয়, মার্কিন, ব্রিটিশ, ডাচ ও অস্ট্রেলিয়ান।   

হঠাৎ বন্যায় তিব্বতের জিরোং এলাকাতেও ভেঙে পড়েছে ভবন ও সড়ক। সেখানেও চলছে উদ্ধার অভিযান।   

এই হঠাৎ বন্যার কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে নেপালের কর্মকর্তাদের ধারণা, ভূমিকম্পে বাধ ভেঙে জনপদে নেমে এসেছে পাহাড়ি ঢল।