যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিরোধী দল লেবার পার্টি। ভোটের মাঠে দলটির এমন সাড়া জাগানো সাফল্যের নায়ক স্যার কিয়ার স্টারমার। ধারণা করা হচ্ছে, তিনিই হতে যাচ্ছেন যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, কিয়ার স্টারমারের জন্ম লন্ডনে। ৬১ বছর বয়সী স্টারমার রাজনীতিতে আসার আগে ছিলেন মানবাধিকার আইনজীবী। যুক্তরাজ্যের পাবলিক প্রসিকিউশন দপ্তরের পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ায় অবদান রাখায় ‘নাইট’ উপাধি পেয়েছেন স্টারমার। কিশোর বয়সে ট্রটস্কি নামের একটি ম্যাগাজিনের সম্পাদকও ছিলেন তিনি। রাজনীতির মাঠে সাড়া ফেলে দেওয়া স্টারমার একজন দক্ষ ফুটবলারও। ক্লাব ফুটবলে আর্সেনালের ভক্ত তিনি।
২০২০ সালের এপ্রিলে লেবার পার্টির নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন স্টারমার। জেরেমি করবিনের স্থলাভিষিক্ত হন তিনি। দায়িত্ব নিয়ে দলকে যুক্তরাজ্যের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসেন স্টারমার। কয়েক বছরের মাথায় ভোটের লড়াইয়ে এর সুফল পেলেন তিনি।
সমর্থকদের চোখে স্টারমার একজন বাস্তববাদী মানুষ। তবে সমালোচকদের কাছে স্টারমার চৌকস নন। বরং তিনি অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়া একজন রাজনীতিক। এ প্রসঙ্গে স্টারমারের জীবনী লেখা সাংবাদিক টম বাল্ডউইন ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, তিনি হয়তো বড় বড় বক্তব্য দিয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে পারবেন না। তিনি যা করতে পারবেন তা হলো সমস্যাগুলো ঠিক করতে পারবেন।
সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর স্টারমারকে ডাউনিং স্ট্রিটে আরও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে। ভোটের আগে তিনি এক শব্দের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার করেছেন। তা হচ্ছে—পরিবর্তন।
রাজা চার্লসের চেয়েও ‘বেশি সম্পদের মালিক’ যুক্তরাজ্যের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। তবে স্টারমারের উঠে আসা শ্রমজীবী পরিবার থেকে। নির্বাচনী প্রচারের সময় স্টারমার বলেছিলেন, ‘আমার মা ছিলেন একজন নার্স, আমার বাবা ছিলেন একজন মিস্ত্রি।’
স্টারমার পরীক্ষায় ভালো ফল করে একটি অভিজাত স্কুলে লেখাপড়ার সুযোগ পান। পরে তিনি লিডস ও অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করেন। ব্যক্তিগত জীবনকেও প্রকাশ্যে আনতে অপছন্দ করেন কিয়ার। তাঁর স্ত্রীর নাম ভিক্টরিয়া স্টারমার। এই দম্পতির দুটি সন্তান রয়েছে। ভিক্টরিয়া স্টারমার কখনোই কোনো সাক্ষাৎকার দেননি। এই ধারা পরবর্তীতে পরিবর্তন হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন স্টারমার।
স্টারমার ৫২ বছর বয়সের আগে নির্বাচনী রাজনীতিতে আসেননি। তিনি ২০১৫ সালে লন্ডন ডিস্ট্রিক্ট অব হলবোর্ন এবং সেন্ট প্যানক্রাসের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নির্বাচিত হন। ব্রেক্সিটের সময় বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রী হিসাবে কাজ করেন। স্টারমার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার বিপক্ষে ছিলেন, কিন্তু তাঁর দলের অনেক নেতাই এর পক্ষে ছিলেন।
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম এক বিতর্ক অনুষ্ঠানে স্টারমার বাংলাদেশ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো দেশগুলো থেকে যেসব মানুষ আসছেন, তাঁদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে না।’
কনজারভেটিভ সরকারের রুয়ান্ডা অভিবাসী প্রত্যাবাসন প্রকল্পের সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন। পরে সমালোচনার মুখে পড়ে সুর পরিবর্তন করে স্টারমার। তিনি বলেন, ‘আমি আসলে বাংলাদেশকে আলাদাভাবে বোঝাতে চাইনি। আমাদের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও আমাদের দেশের প্রতি বাংলাদেশি কমিউনিটির অবদানকে আমি ব্যাপকভাবে মূল্যায়ন করি।’