মণিপুর রাজ্যের গ্রামের বাড়িতে ছুটিতে থাকা ভারতীয় এক সেনাকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত সেনার নাম সারতো থাংথাং কম। তিনি গত শনিবার ছুটি নিয়ে মণিপুরের ইম্ফল জেলায় গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। গতকাল রোববার তাঁর মরদেহ পাওয়া গেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে সারতো থাংথাং কমকে নিজ বাড়ি থেকে কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যাক্তি অপহরণ করে। এ ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী তাঁর ১০ বছর বয়সী ছেলে জানায়, সে ও তার বাবা বাড়ির বারান্দায় বসে ছিল। সে সময় হঠাৎ করে তিনজন লোক তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে এবং তার বাবার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে জোর করে একটি সাদা গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।
পরদিন ইম্ফলের খুনিংথেক গ্রামে তাঁর মৃতদেহ পাওয়া যায়। নিহত সারতো থাংথাং কমের ভাই ও শ্যালক তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তাঁরা বলেন, সারতো থাংথাং কমের মাথায় একটি বুলেটের ক্ষত ছিল।
সারতো থাংথাং কমের ছেলে ছাড়াও এক মেয়ে ও স্ত্রী রয়েছেন। তাঁদের হাতে সারতোর মরদেহ তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মণিপুর ও নাগাল্যান্ড রাজ্য প্রতিরক্ষা দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁর শেষকৃত্য করা হবে।
এ ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে নিহত সেনাসদস্যের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে ভারতের সেনাবাহিনী। এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী বলেছে, ‘আমরা সিপাহী সারতো থাংথাং কমের হত্যার তীব্র নিন্দা জানাই। এই দুঃসমেয় আমরা তাঁর পরিবারের পাশে রয়েছি।’
ভারতের মণিপুর রাজ্য গত মে মাস থেকে কুকি ও মেইতি উপজাতির সংঘর্ষে উত্তপ্ত। প্রায় চার মাস ধরে চলা এই সংঘর্ষে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অনেকে ঘরছাড়া হয়েছেন এবং বহু মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। মণিপুরের সহিংসতা নিয়ে গোটা ভারত উত্তাল হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকরের তৎপরতায় বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত। এরই মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্যকে অপহরণ করে হত্যার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়াল।