এবার পুরো ভারতে বিক্ষোভ ডাকল ককরোচ পার্টি

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যেই শিক্ষাসচিব বিনীত জোশীকে অপসারণ করেছে সরকার। তবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে অবস্থান নেওয়া বিক্ষোভকারীদের মধ্যে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। উল্টো শুক্রবার পুরো ভারতে বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তাদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে রাজপথে অবস্থান নিয়েছেন অধিকারকর্মীসহ সাধারণ মানুষ।

মুম্বাইয়ের দাদারের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বৃহস্পতিবার পুলিশের গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে যান এক আন্দোলনকারী নারী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মুম্বাই প্রশাসন আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত পাঁচজনের বেশি মানুষের জটলায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তবে তাতে কাজ হয়নি।

বিক্ষোভকারী রিয়া আহির বলেন, ‘পুলিশ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ। তারা যদি নাগরিকদের দায়িত্ব নিতে না পারে, তাহলে আমরাই আমাদের দায়িত্ব নেব। গত পরশু তারা ছাত্রদের সঙ্গে যা করেছে, তা অন্যায়। এর দায় পুলিশকেই নিতে হবে।’

শুধু মুম্বাই নয়; দিল্লিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে বড় সবকটি শহরে। কলকাতা, বেঙ্গালুরু, চেন্নাইয়ের রাজপথেও হাজারো শিক্ষার্থী আর সাধারণ মানুষ। এমন বাস্তবতার মাঝেই শুক্রবার ভারতজুড়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণা করে সিজেপি।

অবশ্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বলেছেন, ‘এখনও আলোচনার দরজা খোলা।’ তাঁর দাবি, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে চারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পায়নি সরকার।

সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাসের সাফ কথা, দাবির বিষয়ে কোনো আপস নয়।

সৌরভ দাস বলেন, ‘কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বলেছেন যে আমরা যেকোনো জায়গায় আলোচনা করতে পারি; আমরা আমাদের প্রস্তাবও দিয়েছি। যন্তর মন্তরে অথবা কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়ার মতো কোনো নিরপেক্ষ স্থানে আসুন। আমরা সেখানেই বৈঠক করব।’

প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় প্রথমবারের মতো কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দ্রুত বিচার আদালত গঠন এবং জড়িতদের শাস্তির আশ্বাস তাঁর। তবে এ ঘোষণাকে যথেষ্ট মনে করছেন না আন্দোলনকারীরা।

কংগ্রেসও আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের জন্য মোদি সরকারই দায়ী।