প্রশ্নফাঁস নিয়ে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর এই ভিডিও বার্তার পর অনশন প্রত্যাহার করেছেন অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক। এনডিটিভি এসব তথ্য জানিয়েছে।
বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন করে অপারাধীদের কঠোর শাস্তি দেওয়ার জন্য খসড়া বিল তৈরি হয়েছে। শুক্রবার এই বিষয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হবে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে আগামী সোমবার সেই বিল সংসদে পাশ করানোর চেষ্টা করা হবে।
রাত ১১টা ৫০ মিনিটে ২ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, ‘প্রশ্নফাঁস কোনও সাধারণ বিষয় নয়। লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের জন্য এটি কষ্টদায়ক।’
তিনি জানান, এই কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে আড়াই মাসে সরকারের পক্ষে অনেক পদক্ষেপ করা হয়েছে। দোষীদের গ্রেপ্তার করে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের যাতে এক বছর নষ্ট না হয় তাই দ্বিতীয়বার পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ২২ লাখ পরীক্ষার্থী সেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। ইতোমধ্যেই ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এর ফলে অনেকেই খুশি তবে সরকার এখনও সন্তুষ্ট নয়।
মোদি জানান, অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দেওয়ার লক্ষ্যে দপ্তরকে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই নির্দিষ্ট দপ্তর ফাস্ট ট্র্যাক আদালত সংক্রান্ত খসড়া জমা দিয়েছে। শুক্রবার এই বিষয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হবে। তার পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মোদির দাবি, সোমবার থেকে সংসদে যে অধিবেশন শুরু হবে সেখানে ওই খসড়া বিল পাশ করানোর চেষ্টা করা হবে। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা, ‘প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে মন্ত্রিসভায় কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।’
মোদির প্রতিশ্রুতির পর বৃহস্পতিবার রাতে ২৭ দিনের মাথায় হাসপাতালের খাটে বসেই অনশন প্রত্যাহার করেন ওয়াংচুক। ওই সময়ে হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জৈন আংমো। হাসপাতালে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহ। অনশন প্রত্যাহারের পরে ওয়াংচুককে উত্তরীয় পরিয়ে সম্মান জানান হাসপাতালে উপস্থিত বেশ কয়েকজন।
ওয়াংচুক জানান, সরকারের এই সিদ্ধান্তে তিনি ‘কৃতজ্ঞ ও খুশি’। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা, জিতেন্দ্র সিংহ ও এবং লাদাখের ‘অ্যাপেক্স বডি’-র শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে তিনি অনশন প্রত্যাহার করলেন।
তিনি আরও লেখেন, এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬৫ জন সাংসদ তাঁর সঙ্গে দেখা করে বা চিঠি লিখে অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছিলেন। তাঁর দাবি, হিংসা যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেই কথা মাথায় রেখে ও একাধিক শর্ত নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করার পরেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।



