বিশ্ব অর্থনীতি ও ক্ষমতা কাঠামোর নতুন সমীকরণ নিয়ে ভারতের নয়াদিল্লিতে বসতে যাচ্ছে ১৮তম ব্রিকস সম্মলেন। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বরের এই সম্মেলনে অংশ অংশ নিচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ উদীয়মান শক্তিধর দেশগুলোর নেতারা। বৈশ্বিক রাজনীতিতে প্রভাব বাড়ানো এবং নতুন বিশ্বব্যবস্থার দাবি নিয়ে এ জোট এবার কতটা ঐক্য দেখাবে সেটিই এখন দেখার পালা।
২০০৯ সালে যাত্রা শুরু করা ব্রিকসের মূল লক্ষ্য ছিল উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যেকার সহযোগিতা বাড়ানো। শুরুতে ছিল ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীন। পরে ২০১০ যুক্ত হয় সালে দক্ষিণ আফ্রিকা। আপস
বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাবশালী হলেও এসব দেশ দীর্ঘদিন ধরে মনে করে, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদের প্রতিনিধিত্ব যথেষ্ট নয়। সেই জায়গা থেকেই তৈরি হয় বিকল্প সহযোগিতার এই প্ল্যাটফর্ম। আপস
বর্তমানে ব্রিকস শুধু পাঁচ দেশের জোট নয়। নতুন সদস্য যুক্ত হওয়ার পর এর পরিধি আরও বেড়েছে। সৌদি আরব, মিশর, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইথিওপিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশও যুক্ত হয়ে তৈরি হয়েছে ব্রিকস প্লাস। আপস
জনসংখ্যা, জ্বালানি সম্পদ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও বাজার, সব মিলিয়ে ব্রিকস দেশগুলো বৈশ্বিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে জোটটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো, পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন ব্যবস্থার বাইরে নিজেদের স্বার্থ তুলে ধরার চেষ্টা।
জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাজন কুমার বলেন, ‘ব্রিকস সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ নেতারা একত্রিত হচ্ছেন। যা একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা। ব্রিকস দেশগুলো একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে যারা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও আধিপত্যের বাইরে একটি বিকল্প প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে চায়।’
তবে ব্রিকসের পথও চ্যালেঞ্জমুক্ত নয়। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা ও দ্বিপাক্ষিক বিরোধ। বিশেষ করে ভারত ও চীনের সীমান্ত সমস্যা। ফলে একই প্ল্যাটফর্মে থেকেও সব বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি করা সহজ নয়।
ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্টের উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ জয়তি ঘোষ বলেন, ‘ব্রিকসকে শুধু যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী জোট হিসেবে দেখা ঠিক নয়। এটি বিশ্বে বিকল্প অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক গড়ার একটি প্ল্যাটফর্ম হতে পারে, যা সদস্য দেশগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।’
ব্রিকস এখনো পশ্চিমা জোটের বিকল্প হয়ে উঠেছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক আছে। তবে উদীয়মান শক্তিগুলোর কণ্ঠস্বর হিসেবে এই জোট যে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, তা নিয়ে দ্বিমত নেই।
ভারতের নয়াদিল্লিতে এবারে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন হচ্ছে বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে। তাই এখন দেখার বিষয়, ব্রিকসের সদস্য রাষ্ট্রগুলো নিজেদের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি বৈশ্বিক ক্ষমতার কাঠামোয় নিজেদের অবস্থান কতটা তুলে ধরতে পারে।