মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে ক্রমেই বিপাকে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের দখল থেকে হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যর্থ হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হুতিদের কাছ থেকে বাব আল-মান্দেব প্রণালি সুরক্ষিত রাখা। বিশ্লেষকরা বলছে, ইরানের বিরুদ্ধে যু্দ্ধে কোটি কোটি ডলার ব্যয় ও ব্যাপক সামরিক ক্ষতির মুখে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এককভাবে এই প্রণালিতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা প্রায় অসম্ভব।
উল্লেখ্য, উত্তর-পূর্ব ইয়েমেন এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে আফ্রিকার দেশ জিবুতি ও ইরিত্রিয়ার মাঝখানে অবস্থিত বাব আল-মান্দেব প্রণালি। মাত্র ২৯ কিলোমিটার চওড়া এই সরু জলপথটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধের কারণে এই বাণিজ্য পথের প্রয়োজনীয়তা আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ সৌদি আরবসহ অনেক দেশ তাদের তেল রপ্তানির জন্য এই পথটিকেই বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছে।
ইরানের বিরুদ্ধে ৬ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই প্রণালি। কারণ হরমুজ ইস্যুতে ইরানের কাছে ধরাশায়ী যুক্তরাষ্ট্র বাব আল মান্দেবের মত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের দখল হারানোর ধাক্কা সামলাতে পারবে না বলে মত বিশ্লেষকদের।
বিশ্লেষকরা বলছে, ইরানের বিরুদ্ধে যু্দ্ধে কোটি কোটি ডলার ব্যয় ও ব্যাপক সামরিক ক্ষতির মুখে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এককভাবে এই প্রণালিতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা প্রায় অসম্ভব।
বিশ্বের প্রায় ৫ শতাংশ তেল ও প্রায় ১০ শতাংশ পণ্য এই পথ পরিবাহিত হয়। আর হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়। ফলে বাব আল-মান্দেবও বন্ধ হলে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের ২৫ শতাংশ বা এক-চতুর্থাংশ অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, লোহিত সাগরের এই পথে যদি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, তবে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। ফলে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়ার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিষয়টিকে একটি 'দুঃস্বপ্ন' হিসেবে বর্ণনা করছেন। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ এলিজাবেথ কেন্ডাল বলেন, ২টি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ একই সাথে বন্ধ হলে ইউরোপের বাণিজ্য পঙ্গু হয়ে যেতে পারে।



