ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের যেভাবে বোকা বানাল হামাস 

ইসরায়েলের গোয়েন্দাদের চতুরতা ও তুখোড় কার্যক্রম বিশ্বব্যাপী সবারই জানা। বিভিন্ন দেশের সরকার এই দেশ থেকে এসব গোয়েন্দা কার্যক্রম কিনে নেয়। সেই গোয়েন্দাদেরকেই কিনা বোকা বানিয়ে মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে ইসরায়েলে ৫ হাজার রকেট হামলা চালাল ফিলিস্তিনের কট্টর ইসলামপন্থী দল হামাস। কিন্তু, কীভাবে হামাস এই কাজ সম্ভব করেছে?

বিবিসির পক্ষ থেকে এ নিয়ে জানতে চাওয়া হয় ইসরায়েলের কর্তৃপক্ষের কাছে। এক কর্মকর্তা প্রথমেই বলেন, 'এই ঘটনা কীভাবে ঘটল, আমাদের কোনো ধারণাই নেই।’ 

কিন্তু হামাসের হামলার ব্যাপারে আগে থেকেই জানার কথা ইসরায়েলের। সেই রিসোর্চ তাদের কাছে রয়েছে। এরপরও ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা সুরক্ষিত সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েলে প্রবেশ করেন। কিছু বুঝে উঠার আগেই হাজার হাজার রকেট আসতে থাকে ইসরায়েলে।

শিন বেট, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা, মোসাদ, এর বহিরাগত গুপ্তচর সংস্থা এবং ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর  সম্মিলিত প্রচেষ্টার পরও এই হামলা কেউ বুঝতেই পারেনি, এটি সত্যিই আশ্চর্যজনক। কেননা মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে প্রভাবশালী গোয়েন্দা ব্যবস্থা রয়েছে দেশটিতে। 

তবে, এখনও ঠিক বোঝা যাচ্ছে না ঠিক কীভাবে এত নিরাপত্তা ভাঙতে সক্ষম হয়েছে হামাস। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ইসরায়েলের গোয়েন্দাদের সিস্টেমকে ক্ষণিকের জন্য ভেঙে দিয়েছে হামাস। সীমান্ত দিয়ে সরাসরি এসে প্রবেশ করেনি। এরা সমুদ্রপথ কিংবা গর্ত করে প্রবেশ করতে পারে। এটি করতে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ছিল।

ইসরায়েলের গোয়েন্দা তৎপরতা সম্পর্কে অন্য অনেকের চেয়ে ভালো জানে ফিলিস্তিনি এই সংগঠন। ফলে এই হামলার বিষয়টি যাতে ফাঁস না হয়, সে জন্য নানাভাবে ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের ফাঁকি দিতে হয়েছে এবং তাদের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করতে হয়েছে। 

তবে হামাস যেভাবেই কাজটা করুক না কেন, দেশটির গোয়েন্দা ইতিহাসের একটি বড় ব্যর্থতায় বলতে হবে। কেননা নিকট অতীতে এমন কোনো হামলা হয়নি। বেশির ভাগ হামলার আগেই বুঝতে পেরেছিল। এ নিয়ে এবার তদন্ত শুরু করেছে ইসরায়েল।

তবে, তার আগে নিজেদের সীমান্তে প্রবেশ করা হামাস সেনাদের সরাতে হবে। এই কাজটাও এরই মধ্যে শুরু করেছে ইসরায়েল।

নতুন আরেক ভাবনা অবশ্য পেয়ে বসেছে ইসরায়েলকে। হামাস যদি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভাঙতে পারে, অন্য কেউও পারবে। দেশটির ভয় আসলে ইরানকে নিয়ে। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলের দ্বন্দ্ব চলছে। 

গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলায় ২০০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সূত্র। শনিবারের এই হামলায় এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি আহতের খবর পাওয়া গেছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।  

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, এর আগে গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ৫ হাজারের বেশি রকেট হামলা চালিয়েছে হামাস। হামাসের হামলায় ১০০ জন নিহত ও ৭৫০ জন আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।

হামাসের হামলার পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। শনিবার হামাসের সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন কম্পাউন্ডে ১৭টি হামলা করেছে ইসরায়েল। গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস এলাকার নাসের হাসপাতালের কাছে একটি অ্যাম্বুলেন্সেও হামলা করেছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। এটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ছিল বলে জানা যায়।

হামাসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, 'আমরা আল-আকসা রক্ষার জন্য মর্যাদার যুদ্ধ করছি।’ ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী এই গোষ্ঠীটি গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ৫ হাজারের বেশি রকেট হামলা চালিয়েছে।

এর পর ইসরায়েলের বাসিন্দাদের বিশেষ বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, 'হে ইসরায়েলের জনগণ, আমরা যুদ্ধে নেমেছি। এবার কোনো অভিযান নয়, মহড়া নয়, যুদ্ধ।’