ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও খোঁজ মেলেনি প্রেসিডেন্ট রাইসির। খোঁজ মেলেনি তাঁর সফরসঙ্গী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দোল্লাহিয়ানের। তাঁদের সন্ধানে ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চলছে। এ অভিযানে সহায়তা করছে তুরস্ক।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তল্লাশি অভিযানে সহায়তাকারী তুরস্কের ড্রোন একটি জায়গা শনাক্ত করেছে। সন্দেহ করা হচ্ছে, সেটিই দুর্ঘটনাস্থল।
পূর্ব আজারবাইজান অঞ্চলের রেড ক্রিসেন্টের প্রধানকে উদ্ধৃত করে ফার্স নিউজ জানিয়েছে, তুরস্কের ড্রোনের মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া জায়গায় উদ্ধারকারী দল পাঠানো হচ্ছে।
রেড ক্রিসেন্টের ওই কর্মকর্তা জানান, তুরস্কের ড্রোনের মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া জায়গাটি তাওয়াল নামে একটি এলাকায়। ইরানের প্রেস টিভিও জানিয়েছে, উদ্ধারকারী বাহিনী ওই ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছে।
এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিও জানিয়েছে, তুরস্কের ড্রোন গতকাল রাতে একটি ফুটেজ পাঠিয়েছে। সেখানে পাহাড়ের ধারে একটি অন্ধকার দাগ দেখা যাচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, সেটিই দুর্ঘটনাস্থল।
গতকাল রোববার ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি একটি বাঁধ উদ্বোধন করতে আজারবাইজান সীমান্তবর্তী এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভও ছিলেন। সেখান থেকে তিনটি হেলিকপ্টারের বহর নিয়ে পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের রাজধানী তাবরিজে ফিরছিলেন ইব্রাহিম রাইসি ও তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য কর্মকর্তারা। পথে পূর্ব আজারবাইজানের জোলফা এলাকার কাছে প্রেসিডেন্টকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। অন্য দুটি হেলিকপ্টার নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছেছে।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকারী দল ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না। উদ্ধারে যুক্ত হয়েছে রেড ক্রিসেন্ট ও সামরিক সদস্যরাও। স্থানীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যম বলছে, এলাকাটি কুয়াশাচ্ছন্ন। এ কারণে হেলিকপ্টারের অবস্থান বোঝা যাচ্ছে না।
আইআরএনএ নিউজ বলছে, প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি দিজমার নামের একটি বন ও পাহাড়ি অঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, রাইসি কী ধরনের হেলিকপ্টারে ভ্রমণ করছিলেন সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: