দুবাই বিশ্বের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র হলেও চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তা এখন আতঙ্কের নগরীতে পরিণত হয়েছে। মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুবাই বিমানবন্দরসহ বেশকিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। এ অবস্থায় ব্যাপক বিপাকে পড়েছেন সেখানে বসবাসরত ধনী ও পর্যটকেরা।
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভিযানের জেরে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এ অবস্থায় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো। রেহাই পায়নি দুবাইয়ের ঘাঁটিও।
ইরানের হামলায় শহরটির বেশ কিছু বিলাসবহুল হোটেল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত। বন্ধ দুবাই বিমানবন্দর। এতে বিপাকে সেখানে যাওয়া পর্যটকেরা।
আটকে পড়া এক পর্যটক বলছেন, ‘সময়ের সাথে মানুষের মনে আতঙ্ক বাড়ছে। কতদিন আটকা থাকতে হবে তা কারো জানা নেই। সত্যি বলতে, আমরা এরইমধ্যে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।’
আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ এ বাণিজ্যনগরী ছাড়তে তাই অনেকের এখন একমাত্র ভরসা প্রাইভেট জেট। তবে চাহিদার চেয়ে উড়োজাহাজের তীব্র সংকটে ব্যক্তিগত বিমানের ভাড়া বেড়েছে কয়েকগুণ।
অনেক কোম্পানি বিমা জটিলতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ রাখায় ইস্তান্বুল বা মস্কোগামী চার্টার্ড বিমানের ভাড়া স্বাভাবিকের সময়ে চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।
যাতায়াতের বিকল্প হিসেবে অনেকেই সড়কপথে ছুটছেন ওমানের মাসকাট বা সৌদি আরবের রিয়াদে। তবে সেখান থেকে ইউরোপগামী ফ্লাইট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিভিন্ন অনলাইন টিকিট বুকিং সাইটের তথ্যমতে, মাসকাট থেকে ইউরোপগামী বেশিরভাগ বাণিজ্যিক ফ্লাইটের টিকিট চলতি সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত ফুরিয়ে গেছে। এ ছাড়া দাম ছাড়িয়েছে কয়েক কোটি টাকা।
আমিরাত ছাড়তে ইচ্ছুক অনেক যাত্রী ১০ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে রিয়াদে যাচ্ছেন। তবে রিয়াদ থেকে ইউরোপের ফ্লাইটের ভাড়া সাড়ে তিন লাখ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।