ইরানের সাথে চলমান সংঘাতের কারণে দ্রুত কমছে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান হারে অভিযান চলতে থাকলে ভবিষ্যতে চীন বা উত্তর কোরিয়ার সাথে সংঘাতে জড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ সক্ষমতা চাপে পড়তে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সাথে সংঘাত আবারও তীব্র হওয়ায় নতুন করে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের সক্ষমতা। কয়েক মাসের টানা সামরিক অভিযানে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান গতিতে হামলা চললে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঝুঁকি আরও বাড়বে। সম্ভাব্য কোনো বড় সংঘাতে দ্রুত সাড়া দেয়ার সক্ষমতাও কমতে পারে।
থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) বিশ্লেষণ বলছে, এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তাদের হাতে থাকা মোট থাড ইন্টারসেপ্টর ও প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের প্রায় অর্ধেক এবং টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যবহার করেছে। তবে সেই হারে অস্ত্রভাণ্ডারে যুক্ত হচ্ছে না নতুন ক্ষেপণাস্ত্র।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে প্রতি মাসে মাত্র ১৫টি টমাহক ও ২০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে। চলতি বছরে নতুন কোনো থাড ইন্টারসেপ্টর সরবরাহের সম্ভাবনাও নেই। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত ইরান যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফেরাতে ৩ বছরের বেশি লাগতে পারে।
অন্যদিকে, নতুন অস্ত্র উৎপাদনের অর্থায়ন নিয়েও চাপে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রতিরক্ষা উৎপাদন বাড়াতে ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্ট কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এর সুফল পেতে সময় লাগবে, বলছেন বিশ্লেষকরা।
যুদ্ধবিরতির সময় অস্ত্র ব্যবহারের চাপ কিছুটা কমলেও নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় আবারও কমছে মজুত। এ পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদে একই মাত্রায় সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।



