মধ্যপ্রাচ্য এমন এক অঞ্চল যেখানে যুদ্ধ আর যুদ্ধবিরতি যেন একসাথে হাত ধরাধরি করে চলে। গাজায় যুদ্ধবিরতির মাঝেও ইসরারেলি হামলায় থেমে নেই ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর মিছিল। ইরানের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোনের উড়ে বেড়ানো আপাতত থামলেও হরমুজ প্রণালি ঘিরে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ‘এই বাড়ে তো এই হ্রাস পায়’ অবস্থা।
এদিকে, বৃহস্পতিবার তিন সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধিতে সম্মত হয়েছে লেবানন ও ইসরায়েল। অথচ ২৪ ঘন্টা যেতে না যেতেই যুদ্ধবিরতিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়েছে দেশ দুটি।
শুক্রবার লেবাননের দক্ষিণের ইয়াতের ও কাফরা শহরে হিজবুল্লাহর রকেট লঞ্চার লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী- আইডিএফ। তাদের দাবি, এসব রকেট লঞ্চার ইসরায়েলি সেনা ও সাধারণ নাগরিকদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন।
এদিকে, পাল্টা হামলায় রামিয়াহ এলাকায় ইসরায়েলের একটি সাঁজোয়া যান লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে লেবাননের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ইসরায়েল বেসামরিক ঘরবাড়ি ধ্বংস করে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে বলে দাবি তাদের।
হিজবুল্লাহর হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, লেবানন থেকে আসা যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে ইসরায়েল হামলা চালিয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর ২ মার্চ ইরানের পক্ষে ইসরায়েলে হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে যুদ্ধে জড়ায় হিজবুল্লাহ। এরপর লেবাননে একের পর এক ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
সাম্প্রতিক এই সংঘাতে ইসরায়েলের হামলায় ২ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে লেবাননে। পাশাপাশি দেশটিতে বাস্তুচ্যুত হয়েছে ১২ লাখের বেশি অধিবাসী।