ইরানে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আল-জাজিরা বলছে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া ৬ দিনব্যাপী খামেনির জানাজা ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে প্রতিবেশী ইরাকসহ ৫টি শহরে। প্রায় দেড় থেকে ২ কোটি মানুষের সমাগমের আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তাৎক্ষণিকভাবে দেশটিতে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়। সেইসাথে ৭ দিনের সাধারণ ছুটি।
পরে ৪ মার্চ থেকে ৩ দিনের বিদায় অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত থাকায় তা স্থগিত করা হয়।
৪ মাসের বেশি সময় পর এবার প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার জানাজা ও শেষ বিদায় ঘিরে ৬ দিনের রাষ্ট্রীয় আয়োজন করতে যাচ্ছে ইরান। শনিবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনা চত্বরে খামেনির জানাজার মাধ্যমে এই অনুষ্ঠান শুরু হবে।
স্থানীয় একজন বলেন, আলী খামেনির অনুপস্থিতি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। গত ৩৭ বছর ধরে তিনি একজন সহানুভূতিশীল ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা হিসেবে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাই তার শূন্যতা দীর্ঘদিন পূরণ হওয়ার নয়।
সোমবার তেহরানের রাজপথে একটি শোক মিছিল বের হবে। পরবর্তীতে এই কর্মসূচি ইরানের পবিত্র শহর কোম হয়ে ইরাকের নজফ ও কারবালায় গড়াবে।
কর্মসূচির শেষ ধাপে ৯ জুলাই আলী খামেনির মরদেহ তার জন্মস্থান মাশহাদে নেওয়া হবে। সেখানেই তাকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইরান সরকারের ধারণা, জানাজা ও দাফনের বিভিন্ন পর্বে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন। দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া ও কিউবাসহ ৩০টিরও বেশি দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা এতে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া অংশ নেবেন ৯০টি দেশের ধর্মীয় নেতা।