টাকা ইরানের। কিন্তু সেই টাকায় ক্ষতিপূরণ পাবে সৌদি আরব-ইউএই? তেহরানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ফান্ডে কি এবার সরাসরি হাত দিচ্ছে আমেরিকা? যে অর্থ ফেরত পেতে বছরের পর বছর লড়াই করছে ইরান, সেই অর্থই কি এবার প্রতিদ্বন্দ্বীদের হাতে যাবে?
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন এক বিস্ফোরক খেলা। একদিকে জব্দ শত শত কোটি ডলার। অন্যদিকে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ। আর এর মাঝে আমেরিকার এমন এক পরিকল্পনা, যা পরিণতি পেলে কেঁপে উঠবে পুরো অঞ্চল।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ বর্তমানে একটি হিসাব খতিয়ে দেখছে। যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জব্দ বা স্থগিত থাকা ইরানের সম্পদের একটি অংশ উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর পুনর্গঠনে ব্যবহার হতে পারে।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের নির্দেশ, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার এবং ওমানের কাছ থেকে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব সংগ্রহ করতে হবে। উদ্দেশ্য একটাই। ইরান বা ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর হামলায় গত কয়েক বছরে কত অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে, তার আর্থিক মূল্য নির্ধারণ। এরপর সেই ক্ষতির বিপরীতে ইরানের জব্দ অর্থ ব্যবহার সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখা।
বিশ্বজুড়ে ইরানের স্থগিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০০ থেকে ১২০ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। ইরান বহুবার বলেছে, এই অর্থ মুক্ত না হলে বড় কোনো সমঝোতার পথে তারা এগোবে না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি যেন উল্টো দিকে মোড় নিচ্ছে। তেহরানের সেই অর্থই যাচ্ছে সৌদি আরব বা ইউএইর ক্ষতিপূরণে। যেটি কার্যত নতুন সংকটকে স্বাগতম জানাচ্ছে।
এরইমধ্যে ইরান সরকার এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরান বলছে, তাদের সম্পদ অন্য দেশের ক্ষতিপূরণে ব্যবহারের কোনো অধিকার কারও নেই। এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর যুক্তি, বছরের পর বছর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাদের তেল স্থাপনা, বন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই ক্ষতির কোনো না কোনো মূল্য তো পরিশোধ করতেই হবে।
কিন্তু বিষয়টি এখানে শুধু অর্থের নয়। ক্ষমতারও প্রশ্ন। কোনো দেশের জব্দ সম্পদ আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে অন্য দেশের হাতে গেলে তা ভবিষ্যতে বড় নজির হয়ে দাঁড়াতে পারে। যেটি অন্য শক্তিধর দেশের বিরুদ্ধেও ব্যবহার হতে পারে।
এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইসরায়েল, ইরান এবং লেবাননকে ঘিরে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন সময়ে ইরানের সম্পদ নিয়ে নতুন বিতর্ক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। জ্বালানি বাজারও বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
এখন এটাই দেখার বিষয়। ওয়াশিংটন কি সত্যিই ইরানের জব্দ অর্থে হাত দেবে? নাকি এটি শুধুই চাপ তৈরির কৌশল? তেহরান কি কূটনৈতিক পথে এগোবে? নাকি পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাবে? ২৪ বিলিয়ন ডলারের এই লড়াই কি শুধু অর্থের হিসাব? নাকি এর আড়ালে মধ্যপ্রাচ্যের আরও বড় ভূ-রাজনৈতিক সংঘর্ষ? উত্তর এখনও অজানা।



