ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে এখন কঠিন রাজনৈতিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে তার প্রেসিডেন্সির সবচেয়ে বড় ভুল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত তিনি একটি বড় ঝুঁকি এড়িয়েছেন, সংঘাতকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাননি, যা পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারত।
এদিকে, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা বারবার ব্যর্থ হওয়ায় কঠিন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক বিশ্লেষণ বলছে, ট্রাম্পের সামনে ৩টি সম্ভাব্য পথ খোলা রয়েছে।
প্রথমত, সীমিত বিমান হামলা, নৌ অবরোধ, ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির বর্তমান কৌশল অব্যাহত রাখা। দ্বিতীয়ত, সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা করা এবং প্রয়োজনে সীমিত আকারে স্থল অভিযান পরিচালনা করা। আর তৃতীয় বিকল্প পথটি হলো লক্ষ্য অর্জন না করেই ধীরে ধীরে সংঘাত থেকে সরে আসা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ৩টি পথের কোনোটিই ট্রাম্পের জন্য সহজ নয়। কেননা যে পথেই তিনি হাঁটেন না কেন, তার সঙ্গে রাজনৈতিক ঝুঁকি জড়িয়ে রয়েছে।
সম্প্রতি ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরানের নেতৃত্ব বিশ্বাসযোগ্য নয় এবং তারা আলোচনায় আন্তরিকতা দেখাচ্ছে না। এমনকি তেহরানের জন্য এই আলোচনাই শেষ সুযোগ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে প্রশ্ন উঠছে, ইরান এই সতর্কবার্তাও উপেক্ষা করলে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে?
বিশ্লেষকদের শঙ্কা, সংঘাত আরও বাড়লে উপসাগরীয় অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে ইরান। এতে হরমুজে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়বে।
ইতিহাস বলছে, বিমান হামলা থেকে স্থলযুদ্ধে রূপ নেওয়া সংঘাতের মূল্য অনেক বেশি। ভিয়েতনাম, ইরাক ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ সামরিক অভিযানের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হয়, প্রাণহানি, রাজনৈতিক চাপ ও অর্থনৈতিক ব্যয়ও তত বাড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সংকট নিয়ে ট্রাম্পের পরবর্তী সিদ্ধান্ত শুধু মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিই নয়, তার রাজনৈতিক ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কেমন হবে তাও নির্ধারণ করবে।