ইরানের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের দীর্ঘ ও অনিশ্চিত দায়িত্ব এখন বড় ধরনের মানসিক সংকটে রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে আত্মহত্যার ঝুঁকির কথাও জানিয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। যদিও মার্কিন নৌবাহিনীর দাবি এসব সমস্যার বড় অংশের সমাধান করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ ও অনিশ্চিত দায়িত্ব পালনের কারণে ভয়াবহ মানসিক চাপে পড়েছেন ইরানের বিরুদ্ধে মোতায়েন মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিক ও সেনারা। কবে দেশে ফিরতে পারবেন, তা নিশ্চিত না হওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা ও আত্মহত্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
সান ডিয়াগোতে এক সভায় নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নাবিকদের স্বজনেরা। এক নাবিকের স্ত্রী জানান, তার স্বামী এক বার্তায় লিখেছেন, তিনি যেন আর ঘুম থেকে না ওঠেন এমন কথাও ভাবছেন।
মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, জাহাজে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক ও চ্যাপলিনদের সহায়তা রয়েছে। তবে পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সমুদ্রে অবস্থান, টানা কর্মঘণ্টা, বিশ্রামের অভাব ও অনিশ্চয়তা নাবিকদের মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে।
প্রায় পাঁচ হাজার সদস্য নিয়ে আব্রাহাম লিংকন টানা আট মাসের বেশি সময় ধরে মোতায়েন রয়েছে। ২৫০ দিন সমুদ্রে থাকার পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে প্রায় ৪০ দিনের সরাসরি যুদ্ধাভিযানেও অংশ নিয়েছে জাহাজটি। যুদ্ধজাহাজটিতে আরও বেশি মানসিক স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ পাঠানোর কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন নৌ কর্মকর্তারা।
নিয়ম অনুযায়ী যেখানে প্রতি ৩০ থেকে ৪৫ দিন পরপর বন্দরে বিরতির সুযোগ থাকার কথা, সেখানে দীর্ঘ সময় কোনো স্বাভাবিক বিশ্রাম পায়নি ক্রুরা। নাবিকদের একটাই দাবি তারা শুধু দেশে ফেরার একটি নির্দিষ্ট তারিখ জানতে চান। কারণ দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও যুদ্ধের চাপ তাঁদের মানসিক অবস্থাকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলছে।
পরিবারের অভিযোগ, একসময় খাদ্য ও পানির সংকট, ডাক যোগাযোগে সমস্যা এবং অতিরিক্ত কাজের চাপও তৈরি হয়েছিল। যদিও নৌবাহিনীর দাবি, এসব সমস্যার বড় অংশের সমাধান করা হয়েছে।