ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প—কিন্তু এখন সেই যুদ্ধের চাপ শুধু ওয়াশিংটনে নয়, পৌঁছে গেছে আমেরিকার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্রদের ঘরেও। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ এবার প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলছে—ইরানের বিরুদ্ধে এই দীর্ঘ যুদ্ধ আর কত দিন চলবে? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা উঠেছে আরও ভয়ংকর জায়গায়— নিজেদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো কি সত্যিই এখন নিরাপত্তা দিচ্ছে, নাকি যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে? কেন হঠাৎ ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের মধ্যেই বাড়ছে ক্ষোভ?
তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। কারণ, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, এসব দেশও তত বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। ইরান এবং তাদের মিত্রদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রভাব পড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা, অবকাঠামো ও জ্বালানি ব্যবস্থায়। ফলে শুরুতে যারা ভেবেছিল, যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত ইরানকে চাপে ফেলতে পারবে, তাদের হিসাব এখন বদলাতে শুরু করেছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটা হচ্ছে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো নিয়ে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপসাগরীয় কিছু দেশ এখন ভাবতে শুরু করেছে—নিজেদের ভূখণ্ডে বড় আকারের মার্কিন সামরিক স্থাপনা রাখার সুবিধা আসলে কতটা? কারণ এসব ঘাঁটি একদিকে তাদের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময় এগুলোই সম্ভাব্য লক্ষ্য হয়ে উঠছে। অর্থাৎ, প্রশ্নটা শুধু যুদ্ধের নয়— যুদ্ধ শেষ হলেও মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সামরিক উপস্থিতির ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটিও এখন আলোচনায় আসছে।
আর এখানেই ট্রাম্পের সামনে তৈরি হচ্ছে বড় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমস্যা। কারণ তিনি একদিকে বারবার ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের হুমকি দিচ্ছেন, আবার অন্যদিকে আলোচনার সম্ভাবনার কথাও বলছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ করার মতো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। ফলে সময় যত যাচ্ছে, মিত্রদের মধ্যেও প্রশ্ন বাড়ছে—এই যুদ্ধের শেষ কোথায়?
তবে এখানেই গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি। উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অসন্তুষ্ট হলেও সম্পূর্ণভাবে আমেরিকা থেকে সরে যাওয়ার অবস্থায় এখনো নেই। কারণ নিরাপত্তার জন্য তারা ওয়াশিংটনের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। মার্কিন অস্ত্র, গোলাবারুদ, সামরিক সরঞ্জাম এবং গোয়েন্দা সহযোগিতা—সবই তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ইরানকে চাপে ফেলতে শুরু করা যুদ্ধ এখন শুধু ইরান বনাম আমেরিকার লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রভাব পড়ছে আমেরিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্য মিত্রদের ওপরও। তারা আমেরিকাকে ছাড়তেও পারছে না, আবার আমেরিকার যুদ্ধের ঝুঁকিও আর আগের মতো নিতে চাইছে না। আর এই অবস্থাই ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতা তৈরি করছে— ইরানকে চাপে রাখতে গিয়ে যদি মিত্রদের আস্থাই নড়বড়ে হয়ে যায়, তাহলে যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্যটা শেষ পর্যন্ত কে দেবে—ইরান, আমেরিকা, নাকি আমেরিকার নিজের মিত্ররাই?



