যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের দীর্ঘ ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও পিছু হটার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না ইরান। এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন বলছে, বিগত মাসগুলোতে ওয়াশিংটনের সামরিক সীমাবদ্ধতা ও নিজেদের শক্তি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা অর্জন করেছে দেশটি। তার সুবাদেই লড়াই দীর্ঘায়িত করার সুদূরপ্রসারী কৌশলে এগোচ্ছে তেহরান।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ অভিযান শুরুর পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিজয় অর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ওয়াশিংটনের সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হওয়ার পরিবর্তে দীর্ঘস্থায়ী সংকটে রূপ নিয়েছে সংঘাত।
মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর কঠিন চাপ সৃষ্টি করতে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত সংঘাত টিকিয়ে রাখতে চাচ্ছে তেহরান। অর্থাৎ আরও কয়েক মাস তীব্র লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে দেশটির।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতে মার্কিন বাহিনীর অস্ত্রের সীমাবদ্ধতা আর দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের দুর্বলতা নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে ইরান। হরমুজের মতো সংবেদনশীল বাণিজ্যপথ আর আঞ্চলিক রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব বজায় রেখে তেহরান প্রমাণ করেছে, সহজে হার মানার পাত্র নয় তারা।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা মনে করছেন, মার্কিন বাহিনীকে ব্যয়বহুল ও দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযানে আটকে ফেলার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক অঙ্গনে ট্রাম্প প্রশাসনকে বিপাকে ফেলতে সক্ষম হয়েছে ইরান। যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ইরানের আত্মবিশ্বাস আর চাপ সৃষ্টির ক্ষমতা ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
শুধু তা-ই নয়, যুদ্ধের ছয় মাস শেষে ওয়াশিংটনের ক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রাজনীতির সমীকরণকেও বদলে দিতে শুরু করেছে তেহরান।