ইরানপন্থীদের নিয়ে কঠিন চাপে সৌদি, স্থায়ী যুদ্ধের শঙ্কা

ইয়েমেনের হুতিদের দ্রুত অগ্রগতি ও সৌদি আরবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলায় কঠিন চাপে রিয়াদ। সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থাকলেও বড় ধরনের অভিযান দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। আবার নীরব থাকলেও আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ আরও শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিটি পথেই রয়েছে বড় ঝুঁকি।

ইয়েমেনের কৌশলগত পেরিম দ্বীপ দখলের পর লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখা নিয়ন্ত্রণে নেয় হুতিরা। ফলে বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে তাদের অগ্রযাত্রা উদ্বেগ বাড়িয়েছে সৌদি আরবে।

এর মধ্যেই ইরাক থেকে ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যায়। হামলার দায় কেউ স্বীকার না করলেও ইরানকে দায়ী করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এ অবস্থায় রিয়াদের সামনে প্রশ্ন, হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযান, নাকি কূটনৈতিক সমাধান?

বিশ্লেষকরা বলছেন, সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থাকলেও হুতিদের মোকাবিলা সহজ নয়। দীর্ঘ যুদ্ধের অভিজ্ঞতা, দুর্গম ভূখণ্ড ও গেরিলা কৌশল তাদের বিরুদ্ধে অভিযানকে জটিল করে তুলতে পারে।

ইয়েমেন-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ আল-বাশা বলেন, ‘সৌদি আরবের সামনে এখন বিকল্প খুবই সীমিত। হুতিদের অগ্রগতি এবং ধারাবাহিক হামলার পর নিষ্ক্রিয় থাকা রিয়াদের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। বড় ধরনের পাল্টা হামলার সম্ভাবনাও বাড়ছে।’

তবে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হলে এর প্রভাব ইয়েমেনের গণ্ডি ছাড়িয়ে যেতে পারে। সৌদি অভিযান ইরানকে সংঘাতে জড়ালে তা বৃহত্তর সৌদি-ইরান উত্তেজনায় রূপ নিতে পারে।

ইউরোপীয় কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের ভিজিটিং ফেলো সিনজিয়া বিয়ানকো বলেন, ‘সৌদি আরব সামরিকভাবে সংঘাত বাড়াতে পারে। কিন্তু এতে দীর্ঘমেয়াদি ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার যুদ্ধের ঝুঁকি রয়েছে। ইরান জড়িয়ে পড়লে সংঘাতকে শুধু ইয়েমেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা কঠিন হবে।’

এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক সহায়তাও অনিশ্চিত। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও হরমুজ সংকটে ওয়াশিংটন নতুন বড় সামরিক প্রতিশ্রুতি দিতে আগ্রহী নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কূটনৈতিক পথও সহজ নয়। দীর্ঘদিন রাজনৈতিক চাপের কৌশল নিয়েও হুতিদের অগ্রগতি থামাতে পারেনি সৌদি আরব। সমঝোতা হলে ইয়েমেনে রিয়াদের অবস্থানও দুর্বল হতে পারে।

সব মিলিয়ে সৌদি আরবের সামনে ৩টি পথ—সামরিক অভিযান, কূটনৈতিক সমাধান বা সীমিত প্রতিক্রিয়া। আর প্রতিটি পথেই রয়েছে বড় ঝুঁকি।

এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলায় ইয়েমেনের তায়েজে ৩ জন নিহত হয়েছে। আর সৌদি আরবের ৩টি শহরে হুতিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ১৩ বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছে। সৌদি আরবের জেদ্দা ও তায়েফসহ ৬টি শহরে জরুরি সতর্কতা জারির পর তা তুলে নেওয়া হয়েছে।

এর আগে, সৌদির খামিস মুশাইত শহরের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের হামলা চালানোর দাবি করে হুতিরা। তাদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, বিমানঘাঁটির হ্যাঙ্গার, রাডার, রানওয়ে ও অস্ত্রভান্ডার লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।

গত ৫ দিনে ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় সৌদি আরব যুদ্ধবিমান দিয়ে ৩ শতাধিক হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ হুতিদের। এদিকে, লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চলে গ্রেটার ও লেসার হানিশ নামে ২টি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুতিরা।