ইসরায়েলে সরকার গঠনের চাবি আরব দলগুলোর হাতে!

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক আসন পেতে যাচ্ছে আরব দলগুলো। নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পথে থাকলেও সরকার গঠনের পথ সহজ হচ্ছে না আইজেনকটের জন্যও। এক্ষেত্রে আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া সরকার গঠন করা কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে জটিল হয়ে উঠছে রাজনৈতিক সমীকরণ। বুথফেরত জরিপে দেখা যাচ্ছে, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত নয় কোনো পক্ষেরই। তবে এবারের নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক আসন পাওয়ার আভাস দিয়ে বাজিমাত করেছে আরব দলগুলো।

বিশ্লেষকদের মতে এবারের সরকার গঠনে আরব দলগুলোই হয়ে উঠতে পারে ক্ষমতার হিসাব-নিকাশে নির্ধারক শক্তি। নেতানিয়াহু সরকারের নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভে বেড়েছে আরব ভোটারদের অংশগ্রহণ। তবে তাদের প্রভাব নির্ভর করছে জোটের সমীকরণের ওপর।

নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাইলেও গাজা ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে আইজেনকটের সমর্থনের কারণে তার সরকারে যোগ দেবে না জয়েন্ট লিস্ট। তবে বাইরে থেকে সমর্থনের সম্ভাবনা রেখেছে দলটি।

জয়েন্ট লিস্টের আরব নেতা ইউসেফ জাবারীন বলেন, ‘যদি তারা সত্যিই মনে করে, নতুন জোট পরিবর্তন আনতে পারবে, তাহলে আমরা বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারি। তবে আগামী কয়েক সপ্তাহের আলোচনা, সমঝোতা এবং বিরোধী দলের বর্তমান নেতাদের অবস্থান ও বক্তব্যের ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে।’

অন্যদিকে, আইজেনকটের সরকারে যোগ দিতে আগ্রহী রা'আমের নেতা মনসুর আব্বাস। এখানেই ইসরায়েলের রাজনীতির মূল বৈপরীত্য। সরকার গঠনে আরব ভোট গুরুত্বপূর্ণ, অথচ আরব দলগুলোকে জোটসঙ্গী করতে অনীহা বিরোধী শিবিরের একাংশের।

চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর সরকার গঠনের সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে। তবে বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও ক্ষমতায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া সরকার গঠনের পথ কঠিন হয়ে পড়ছে আইজেনকটের জন্য।