শিখ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থযাত্রার জন্য বিশেষ ধর্মীয় ভিসা নিয়ে পাকিস্তান গিয়েছিলেন ভারতীয় নারী সরবজিৎ কউর। কিন্তু ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও ভারতে আর ফেরেননি, উল্টো পাকিস্তানে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তিনি স্থানীয় নাগরিক নাসির হুসেনকে বিয়ে করেন।
এ ঘটনায় পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ দুজনকেই হেফাজতে নিয়েছে। সরবজিৎ কউরকে ভিসা শর্ত লঙ্ঘনের কারণে ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে ভারতে ফেরত পাঠানো হতে পারে, তবে তাঁর স্বামীর বিষয়ে তদন্ত চলবে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী সরদার রমেশ সিং আরোরা।
সরবজিৎ কউর ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের কাপুরথালা জেলার বাসিন্দা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, তাঁর আগে একবার বিয়ে হয়েছিল, সে বিয়ে বিচ্ছেদে গড়িয়েছে। আগের সংসারে তাঁর দুটি সন্তান রয়েছে। সরবজিতের সাবেক স্বামী দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন বলে জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম।
গত বছরের ৪ নভেম্বর সরবজিৎ কউর প্রায় দুই হাজার শিখ তীর্থযাত্রীর একটি দলের সঙ্গে পাকিস্তানে নানকানা সাহিব গিয়েছিলেন। তাঁর ভিসার মেয়াদ ছিল ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তিনি ভারতে ফেরেননি। পরে পাকিস্তানের আদালতে দেওয়া বয়ান অনুযায়ী, তিনি স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নাসির হুসেনকে বিয়ে করেন। ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর নাম রাখা হয় ‘নূর।’ আদালতে জমা দেওয়া নিকাহনামা অনুযায়ী, নাসির হুসেনের বয়স ৪৩ বছর এবং সরবজিৎ কউরের বয়স ৪৮ বছর।
পাঞ্জাবের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী জানিয়েছেন, ৪ জানুয়ারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো খবর পেয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তাঁদের হেফাজতে নেয়। বর্তমানে উভয়েই নানকানা সাহিব পুলিশ সদর দপ্তরে রয়েছেন। পুলিশ ও ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো যৌথভাবে বিষয়টি তদন্ত করছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ২০১৬ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে সরবজিৎ কউর ও নাসির হুসেনের পরিচয় হয়। পরে ইনস্টাগ্রামে যোগাযোগের মাধ্যমে ছয় মাস আগে দুজনে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। একাধিকবার একে অন্যের দেশে যাওয়ার জন্য ভিসার আবেদন করেছিলেন, তবে আইনি জটিলতায় তা অনুমোদন পায়নি।
রমেশ সিং আরোরা বলেন, পাকিস্তানের আইন অনুযায়ী ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কেউ দেশে অবস্থান করলে তাঁকে প্রত্যর্পণ করা হয়। সে অনুযায়ী সরবজিৎ কউরকে ইভ্যাকুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ডের (ইটিপিবি) তত্ত্বাবধানে দেওয়া হবে। সরকার ইতোমধ্যে পাকিস্তান শিখ গুরদোয়ারা প্রবন্ধক কমিটিকে ভবিষ্যতে ভিসা বিধি কঠোরভাবে মানার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে সরবজিৎ কউরকে ভারতে ফেরত পাঠানোর জন্য লাহোর হাইকোর্টে আবেদন করেছেন পাঞ্জাবের মানবাধিকার কর্মী দাস মহিন্দর পাল সিং। তিনি বলেছেন, ব্যক্তিগত জীবনে বিয়ের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন নেই, কিন্তু সে উদ্দেশ্যে ধর্মীয় ভিসার অপব্যবহার করে সরবজিৎ শিখ ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতে আঘাত করেছেন।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আপাতত সরবজিৎ কউরের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াই অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তাঁর স্বামী নাসির হুসেনের বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।