চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টিতে পৃথক দুটি পাহাড় ধসে প্রাণ গেছে আরও দুই শিশুর। আহত অন্তত দুজন। এ নিয়ে দুদিনে পাহাড়ধসে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদিকে বুধবার সকাল থেকে টানা বর্ষণে ফের ডুবেছে চট্টগ্রাম নগরী। ভোগান্তি চরমে নগরবাসীর। একইসাথে ডুবেছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল লাইন। ইতোমধ্যে ৪টি ট্রেনের যাত্রা বাতিলের পর অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের ট্রেন চলাচল।
বুধবার সকাল ১১টা দিকে বিকট শব্দে ধসে পড়ে চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশের মুক্তিযোদ্ধা পাহাড়ের একাংশের মাটি। আর তাতে চাপা পড়ে পাহাড়ের পাদদেশে থাকা ঘরের ১০ বছর বয়সী শিশু সামিয়া। আহত হয় আরও অন্তত ২ জন। ঘটনার পরই ছুটে আসেন স্থানীয়রা। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় উদ্ধার করা হয় নিহত ও আহতদের। এর আগে, সীতাকুন্ডের জঙ্গল সলিমপুরের ৬নং সমাজে কাঁচা ঘরে পাহাড়ধসে পড়ে মৃত্যু হয় ১০ মাস বয়সী আরেক শিশুর।
অতি ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে তিন শিশুর মৃত্যুর পাশপাশি ডুবেছে রেললাইন। বাতিল করা হয়েছে কক্সবাজার ৪টি ট্রেনের যাত্রা। পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের ট্রেন চলাচল। বুধবার ডুবে যাওয়া রেললাইন পরিদর্শনে এসে এসব কথা জানান রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ। এদিকে যাত্রা বাতিল হওয়ায় ভোগান্তিতে চার ট্রেনের প্রায় আড়াই হাজার যাত্রী। এসময় রেলওয়ের সমন্বয়হীনতায় ক্ষোভ জানান তারা।
এদিকে বুধবার দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২৩৪ দশমিক ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। ভোরে নগরীর নিচু এলাকার পানি নেমে গেলেও সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে আবারও ডুবেছে সেসব এলাকা। অতি ভারী বৃষ্টির কারণে সকাল থেকেই ভোগান্তিতে নগরবাসী।
চট্টগ্রাম গেল ৪৩ বছরে এমন বৃষ্টি দেখেনি নগরবাসী। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃহস্পতিবারও অব্যাহত থাকবে বৃষ্টিপাত। শঙ্কা রয়েছে পাহাড়ধসের।



