লক্ষ্মীপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ছাত্রদল ও শিবির-সমর্থিত অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিষয়ক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় শিবির-সমর্থিত জুলাই যোদ্ধা সারোয়ার হোসেন বক্তব্য দেওয়ার সময় সরকারের বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনা করেন। এ সময় ছাত্রদল-সমর্থিত জুলাই যোদ্ধা রাহাত হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন অংশগ্রহণকারী তার বক্তব্যে আপত্তি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা হস্তক্ষেপ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান, পুলিশ সুপার আবু তারেক, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, জুলাই যোদ্ধা, শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনার বিষয়ে শিবির-সমর্থিত জুলাই যোদ্ধা সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘জুলাই যোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দিচ্ছিলাম। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বাধা দেন এবং হট্টগোল সৃষ্টি করেন। এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
অন্যদিকে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবুল বারাকাত সৌরভ বলেন, ‘সারোয়ার হোসেন বক্তব্যে সরকার নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনা ও কটূক্তি করেছেন। এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন জুলাই যোদ্ধারা। এ ধরনের কটূক্তি মেনে নেওয়া হবে না।’
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ‘পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে ছিল। শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনা সভা শেষ হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’
এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি উত্তর তেমুহনী এলাকা থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দক্ষিণ তেমুহনী এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে ছাত্রদল নেতারা অভিযোগ করেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে জামায়াত-শিবির ও এনসিপির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত। দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনাও তারা ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। অভিযোগে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে তা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।



