মৌলভীবাজারের রাজনগরে নিখোঁজের প্রায় ২০ দিন পর বাড়ির উঠান থেকে এক গৃহবধূর মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ও তার চাচাতো ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
সোমবার দুপুরে উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের করিমপুর চা বাগান এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আলমগীর আলীর বাড়ির উঠান খুঁড়ে তার স্ত্রী জায়দা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত জায়দা বেগম মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সুনাটিকি গ্রামের আব্দুল হান্নানের মেয়ে। তার স্বামী আলমগীর আলী করিমপুর চা বাগানের মৃত নুর আলীর ছেলে।
মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম জানান, জায়দা বেগম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার বাবা গত ৩ জুন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওই ঘটনার সূত্র ধরে আলমগীর আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, গত ১৭ জুন স্ত্রীকে হত্যার পর বাড়ির উঠানের একপাশে প্রায় আট ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে মরদেহ পুঁতে রাখেন। পরে তার দেখানো স্থানেই মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের বাবা আব্দুল হান্নান জানান, প্রায় ১২ বছর আগে পরিবারের অমতে ভালোবেসে চা শ্রমিক সন্তান আলমগীর আলীকে বিয়ে করেন তার মেয়ে জায়দা। পরে মেয়ের সুখের কথা বিবেচনা করে পরিবার বিয়ে মেনে নেয়। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে প্রায়ই দাম্পত্য কলহ লেগে থাকত। আবার মিটমাট হয়ে যেত।
আব্দুল হান্নান আরও জানান, গত ১৮ জুন আলমগীর তাদের বাড়িতে এসে সাত বছরের ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে দাবি করেন, জায়দা কাজের ভিসায় সৌদি আরব চলে গেছেন। কিন্তু এরপর কয়েক দিন মেয়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না হওয়ায় পরিবারের সন্দেহ হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার বক্তব্যে অসংগতি ধরা পড়ে। পরে স্থানীয়দের পরামর্শে ৩ জুলাই রাজনগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় আলমগীর আলী ও তার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ জালালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জায়দা-আলমগীর দম্পতির সংসারে সাত বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার বলেন, "হত্যার প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করছি। তবে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, এখন দ্রুতই প্রকৃত কারণ জানা যাবে।"



