জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে সমাধান আসবে না বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও সাবেক রাষ্ট্রদূতরা। তারা বলছেন, জটিল এ সংকট এমনকি বাংলাদেশ-মিয়ানমারও সমাধান করতে পারবে না। সমাধানের খোঁজে চীনের অর্থনৈতিক করিডরের প্রস্তাব নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ঢাকাকে পর্যাপ্ত গবেষণার তাগিদ তাদের।
২০১৭ সালে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় মিয়ানমারের কয়েক লাখ রোহিঙ্গা। মানবিক কারণে আশ্রয় দিলেও এখনও তাদেরকে নিজ দেশে ফেরানো যায়নি। দিন দিন রোহিঙ্গা সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গেই কমছে আন্তর্জাতিক সহায়তা।
প্রতিবছরই জাতিসংঘ অধিবেশনে এ নিয়ে কথা বলেন সরকার প্রধানরা। এবারও রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সাবেক কূটনৈতিক কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম বলছেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তায় বড় ঝুঁকি রোহিঙ্গারা। এ অঞ্চলে জঙ্গী উত্থানের শঙ্কার জন্যও তারাই দায়ী, বলছেন তিনি। মিয়ানমার সরকার বা আরাকান আর্মি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চায় না বলে ধারণা তার।
কর্নেল অব. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, এমনকি সেখানকার যে মংক, সে সাধু বা ধর্মীয় গুরুরা কিন্তু খুবই স্ট্রং। তারাও কিন্তু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে। এসব নিয়েই আমাদের একটা সলিউশনে আসতে হবে। এটা এককভাবে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব না। যদি রাজিউনাল পাওয়ার, এবং ইউএন বা আনআটারন্যাশনাল লেভেলে যদি জোড়ালো কিছু না হয়, তাহলে এটা হ্যান্ডেল করা বাংলাদেশের পক্ষে একতভাবে সম্ভব না।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলছেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘ নয়, চীনের সহায়তা লাগবে। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে শি জিনপিং যে অর্থনৈতিক করিডরের প্রস্তাব দিয়েছেন তার পক্ষে তিনি।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান সম্ভব এই ইকোনোমিক করিডরের মাধ্যমে। এর একটা বড় কারণ হলো এই ইকোনোমিক করিডর রেল আর রোডে করতে হলে আরাকানের উপর দিয়েই করতে হবে। ধরে নেওয়া যায় প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং এই প্রস্তাব যেহেতু করেছেন সেহেতু মিয়ানমার এবং আরাকানের সঙ্গে কথা বলেই করেছেন। এছাড়া এ প্রস্তাব দেওয়ার কথা নয়।
অধ্যাপক ইমতিয়াজ বলেন, ‘এ করিডর থেকে বাংলাদেশ কীভাবে লাভবান হবে সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা উচিত।’


