ঠাকুরগাঁও উপ-নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন হচ্ছে না, তবে জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে তিনগুণ ফোর্স থাকবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় ইসি বলেন, ‘এই এলাকার মানুষ অত্যন্ত সহজ সরল, তাদের সরলতাকে যে অপব্যবহার করা হবে না এটা আমরা বলতে পারি না বা বাইরে থেকে এই নির্বাচনটাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, আমাদের জাতীয় নির্বাচনকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা থাকবে না, এটাও আমরা বলতে পারি না। সুতরাং যে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও অপতৎপরতা রোধে আমাদেরকে সচেতন থাকতে হবে।’
মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমরা নির্বাচন পদ্ধতি টাকে এমনভাবে সাজাতে চাই, ভবিষ্যতে যেন কেউ না বলে ডিসি, এসপি বা ওসিদের সরাতে হবে। সেখানে কোনো হার্ডকোর সমর্থকও বসে থাকেন তিনিও যেন নির্বাচনের ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারেন। এটা আমাদের সম্মানের বিষয়।’
নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ইসি বলেন, ‘আংশিক নয় পুরা সত্য কথা বলবেন। মূল ধারার সংবাদ কর্মীদের সাথে সম্পৃক্ত থাকবেন। আমাদের দেশে অপতথ্যের সোর্স রয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ওখানে যেমন সোশ্যাল মিডিয়াকে কাউন্টার করার জন্য সঠিক তথ্যের প্রবাহ বাড়াতে হবে। অনুরূপভাবে মূলধারার সাংবাদিকদের সহায়তা নিতে হবে। তারা অন্তত মিথ্যা কথা বলবেন না। কারণ তারা জবাব দিহিতার তার মধ্যে থাকেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আবারও আস্থার জায়গায় ফেরত যাচ্ছি। আগের রাতে নির্বাচন সামগ্রিক কেন্দ্রে পাঠিয়ে দিচ্ছি। আগের রাতে এটা নিরাপদ রাখা, অবস্থান ঠিক রাখা জরুরি।’
ইসি বলেন, ‘নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি স্থানীয় আতিথেয়তা গ্রহণ করবেন না, এক গ্লাস পানিও না। আমরা প্রত্যেক বাহিনীকে সামর্থ্য অনুযায়ী বরাদ্দ দিয়েছি। তাদের লজিস্টিক যেন পরিকল্পিত হয়।’
এ সময় তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনের পরিবেশ সুন্দর রয়েছে। আশা করছি একটি সুন্দর পরিবেশের মাধ্যমে আগামী ২৯ অক্টোবর উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। উপ-নির্বাচনে সেনাবিহীন মোতায়েন কথা চিন্তা করছি না, ধরে নেন সেনাবাহিনী মোতায়েন হবে না। কারণ এখানে যে পরিমাণ ফোর্স আছে জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে তিনগুণ ফোর্স থাকবে। এখানে কোনো ধরনের কোনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপেরও সুযোগ থাকবে না।’
নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘এবারও ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা থাকবে, সেই সাথে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ করা হবে। কেউ যেন কোনো ধরনের অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করার সুযোগ না পায় সেটা নিশ্চিত করা হবে। আর কেউ যদি কোন ধরনের অপকর্ম করেন সাথে সাথে সেটি যেন প্রতিহত করা যায় সে ধরনের সকল ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদসহ রংপুর বিভাগ ও ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।


