বিশ্বকাপ নিষ্পত্তি হয়েছে দুই সপ্তাহ হতে চলল। কিন্তু বিতর্কের রেশ এখনো থামছেই না। গত ১৯ জুলাই নিউ জার্সির ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে স্পেন। শিরোপা নির্ধারণী ওই ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর দুদলের খেলোয়াড়রা সংঘর্ষে জড়ান। ওই ঘটনাসহ বিশ্বকাপজুড়ে দলটির বিরুদ্ধে ওঠা আরও বেশ কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে ফিফা।
ফাইনালে স্পেনের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তদন্ত চালিয়েছে ফিফা। এরপর আর্জেন্টিনার তিন সদস্য- মিডফিল্ডার লেয়ান্দ্রো পারেদেস, ডিফেন্ডার নাহুয়েল মলিনা এবং সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু করেছে বৈশ্বিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। পাশাপাশি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
শুধু আর্জেন্টিনা নয়, শাস্তি পেতে পারে স্পেনও। ফিফা জানিয়েছে, আর্জেন্টিনার থিয়াগো আলমাদা ও স্পেনের মিডফিল্ডার গাভির বিরুদ্ধেও অসদাচরণের অভিযোগে তদন্ত চলছে। তবে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ পারেদেস, মোলিনা ও আয়ালার বিরুদ্ধে। স্পেনের গাভি, রদ্রি ও দানি ওলমোর সঙ্গে মাঠে সংঘর্ষের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এই তিনজনকে দীর্ঘ মেয়াদের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে।
ফিফা এক বিবৃতিতে বলেছে, অভিযুক্তদের নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এরপর ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।
শুধু মাঠের সংঘর্ষ নয়, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি অভিযোগ খতিয়ে দেখছে ফিফা। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শন, বৈষম্যমূলক স্লোগান, বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ, ম্যাচের নিয়ম ভঙ্গ এবং নিরাপত্তা প্রোটোকল না মানার বিষয়।
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা মাঠ ছাড়ার আগে একটি ব্যানার প্রদর্শন করেছিলেন। সেখানে লেখা ছিল— ‘Las Malvinas son Argentinas’। বাংলায় যার অর্থ, ‘মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার।’ ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। বর্তমানে দ্বীপপুঞ্জটি যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ফিফার মতে, বিশ্বকাপের কয়েকটি ম্যাচে আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনায় রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শন, বৈষম্যমূলক আচরণ, দেরিতে ম্যাচ শুরু, নিরাপত্তা নিয়ম ভঙ্গ এবং দর্শকদের মাঠে বস্তু নিক্ষেপের অভিযোগ পাওয়া গেছে।



