কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে গত মাসের শেষভাগে পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যান ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ওই ঘটনায় ৪১ বছর বয়সী মহাতারকাকে শাস্তি দিয়েছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। রোনালদোকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২৫৫ ইউরো জরিমানা করা হয়েছে, বাংলাদেশি অর্থমূল্যে যা প্রায় ৩৫ হাজার ৩৮৩ টাকা।
রোনালদোকে কেন এত কম শাস্তি দিল পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন? ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনা করেই রোনালদোকে এমন শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তাঁর শাস্তি কমানোর পেছনে কয়েকটি বিষয় কাজ করেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এর মধ্যে রয়েছে নিজের ভুল স্বীকার করা এবং অতীতে শৃঙ্খলাভঙ্গের কোনো রেকর্ড না থাকা।
তা রোনালদোর সঙ্গে কোচ জেসুসের বিরোধের সূত্রপাত কোথায়? গত মাসে নেশনস লিগে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে রোনালদোকে একাদশে রাখেননি পর্তুগাল কোচ। পুরো ম্যাচ বেঞ্চে বসেই কাটাতে হয় ৪১ বছর বয়সী এ তারকাকে। রোনালদোর অভিযোগ, কোচ তাঁকে খেলানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও সেই কথা রাখেননি।
ওই ঘটনায় কোচের ওপর ক্ষুব্ধ রোনালদো পরদিন জাতীয় দলের সঙ্গে অনুশীলনও করেননি। এরপর ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কোচ জানান, পরের ম্যাচেও রোনালদোকে শুরুর একাদশে রাখবেন না।
এ ঘটনায় কোচের ওপর ক্ষোভ আরও বেড়ে যায় রোনালদোর। সেই ক্ষোভ থেকেই জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়েন রোনালদো। দলের ক্যাম্প ছাড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিবৃতি দেন তিনি। সেখানে কোচ জেসুসের বিরুদ্ধে কথা না রাখার অভিযোগ তোলেন তিনি। পাশাপাশি তাঁদের মধ্যে কী নিয়ে বিরোধ হয়েছিল, সেটিও বিস্তারিত তুলে ধরেন।
নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কোচের সঙ্গে কী কথা হয়েছিল, তা জানিয়ে রোনালদো বলেন, ‘আমি পুরোপুরি অবাক হয়ে যাই, যখন কোচ আমাকে জিজ্ঞেস করেন, নরওয়ের বিপক্ষে ৩০ মিনিট খেলার জন্য আমি প্রস্তুত কি না। আমি তখন নিজের শারীরিক পুনরুদ্ধারের দিকে পুরোপুরি মনোযোগ দিচ্ছিলাম। সব সময়ের মতো সতীর্থদের সঙ্গেও ছিলাম। আমার ধারণা ছিল, সেদিন আমি খেলব না। এটা নিয়ে আমার কোনো সমস্যা ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই অনুরোধ আমার শারীরিক পুনরুদ্ধার ও অনুশীলনের পরিকল্পনার বাইরে ছিল। কারণ, আমার শুধু ৪ অক্টোবর দ্য দ্রাগাও স্টেডিয়ামে খেলার কথা ছিল। তারপরও আমি রাজি হয়েছিলাম। কোচ আমাকে প্রস্তুত থাকতে বলেছিলেন, কারণ আমি ৩০ মিনিট খেলব।’
এরপর কী ঘটেছিল, সেটিও ব্যাখ্যা করেছেন রোনালদো। তাঁর ভাষায়, ‘এরপর কী হয়েছিল, তা সবাই জানে। বিরতির পর আমি ওয়ার্মআপ করি। সময় গড়াতে থাকে, কিন্তু আমাকে আর মাঠে নামানো হয়নি।’ রোনালদো আরও বলেন, ‘কোচ আমার কাছে দেওয়া কথা রাখেননি।’
পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ) যে শাস্তিই দিক, তা মেনে নেবেন বলে জানিয়েছিলেন রোনালদো। তবে শাস্তির মুখে পড়লেও জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছার কথা স্পষ্ট করেন তিনি।
উল্লেখ্য, নেশনস লিগে নভেম্বরে ডেনমার্ক ও ওয়েলসের বিপক্ষে আরও দুটি ম্যাচ খেলবে পর্তুগাল। তবে এই দুই ম্যাচে খেলতে বাধা নেই রোনালদোর।


