আকাশে হঠাৎ জ্বলে উঠল জরুরি সংকেত। মাত্র কয়েক মুহূর্ত পরই রাডার থেকে হারিয়ে গেল একটি মার্কিন সামরিক বিমান! ঘটনাস্থল—বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি। আর এরপরই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ল বিস্ফোরক দাবি—মার্কিন বিমানটি কি ইরানের আঘাতে ভূপাতিত হয়েছে?
ঘটনার শুরু শুক্রবার ভোরে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন বিমানবাহিনীর ই-থ্রি-জি সেন্ট্রি উড়ছিল হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি আকাশসীমায়। প্রায় ১৯ হাজার ২৭৫ ফুট উচ্চতায় থাকা বিমানটির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৮৫২ কিলোমিটার। হঠাৎ বিমানটি পাঠায় জরুরি সংকেত। এরপর কিছু সময়ের মধ্যেই সেটির অবস্থান আর রাডারে দেখা যায়নি।
এই তথ্য ছড়িয়ে পড়তেই পরিস্থিতি ঘিরে তৈরি হয় তীব্র জল্পনা। কারণ, ই-থ্রি-জি সেন্ট্রি কোনো সাধারণ সামরিক বিমান নয়। এটি মূলত আকাশে উড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি কেন্দ্রের মতো কাজ করে। শত্রুর গতিবিধি শনাক্ত করা থেকে শুরু করে যুদ্ধক্ষেত্রে বিভিন্ন সামরিক অভিযানে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আর তাই হরমুজের মতো উত্তেজনাপূর্ণ এলাকায় এমন একটি বিমানের হঠাৎ রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া স্বাভাবিকভাবেই বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।
কিন্তু এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সামনে আসে। বিমানটি ইরান ভূপাতিত করেছে—এমন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। মার্কিন সামরিক কমান্ডও এমন কোনো বিমান ভূপাতিত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেনি। তবে ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে।
এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি এবং এর আশপাশের এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইরান চুক্তি করতে আগ্রহী হলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত সমঝোতার জন্য প্রস্তুত নয়। অর্থাৎ একদিকে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা অনিশ্চিত, অন্যদিকে হরমুজকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনাও কমছে না। আর এই পরিস্থিতিতে মার্কিন একটি গুরুত্বপূর্ণ নজরদারি বিমানের জরুরি সংকেত পাঠিয়ে রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা—বিমানটি কি কোনো কারিগরি সমস্যায় রাডার থেকে হারিয়ে গিয়েছিল, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও বড় কোনো ঘটনা? নিশ্চিত তথ্য না আসা পর্যন্ত এর উত্তর মিলছে না। তবে হরমুজের আকাশে এই রহস্য যতক্ষণ অমীমাংসিত থাকবে, ততক্ষণ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের উত্তেজনাও ততটাই বাড়তে থাকবে। কারণ একটি বিমান শুধু রাডার থেকে অদৃশ্য হয়েছে—নাকি এর সঙ্গে লুকিয়ে আছে এমন কোনো ঘটনা, যা প্রকাশ্যে এলে বদলে যেতে পারে পুরো সংঘাতের হিসাব?



