ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার দুপুর ১২টায় কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ নেন তিনি। এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহসহ কেন্দ্র ও রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারা।
কালীঘাট মন্দিরের আদলে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে তৈরি করা হয় বিজেপি সরকারের শপথমঞ্চ। শপথের দিন হিসেবে রবীন্দ্রজয়ন্তীকে বেছে নেওয়া আয়োজনের অন্যতম অনুসঙ্গও ছিল রবীন্ত্রসঙ্গীত।
শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সকালে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে রেসকোর্সে যান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পরে শুভেন্দুকে পাশে নিয়ে ছাদখোলা গাড়িতে শপথ অনুষ্ঠানে আসেন তিনি। মঞ্চে উঠেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি।
জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল আয়োজন। শুরুতেই রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাজ্যের গর্ভনর আরএন রবি।। এরপর মন্ত্রী হিসাবে একে একে শপথ নেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু।
শপথ মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাডনবীশ।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা, স্মৃতি ইরানি ও শিবরাজ সিংহ চৌহান। অগ্নিমিত্রা পাল, মিঠুন চক্রবর্তীসহ কেন্দ্র ও রাজ্য বিজেপি’র অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও এসময় উপস্থিত ছিলেন।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে দলে দলে ব্রিগেড ময়দানে জড়ো হতে থাকেন নেতাকর্মীরা। সময় গড়ানোর সাথে সাথে কানায় কানায় পূর্ণ হতে থাকে গোটা ময়দান। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় নিহতদের পরিবারকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
শপথকে ঘিরে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয় বিগ্রেড এবং এর আশেপাশের এলাকা। যান চালাচলেও জারি করা হয় বিধি-নিষেধ।
উল্লেখ্য, গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টির ভোটের ফল জানা যায়। এর মধ্যে ২০৭ টিতেই জয়ী হন বিজেপি প্রার্থীরা।
এদিকে, নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে দুটিতেই জয়লাভ করেন শুভেন্দু অধিকারী। এর মধ্যে ভবানীপুরে সদ্য-প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করেন তিনি।



