চারদিক ধ্বংসস্তূপ। বাতাসে মিশে রয়েছে বারুদের ঘ্রাণ। কখন যেন আবারও উড়ে আসে একটা ইসরায়েলি বোমারু বিমান, রয়েছে সেই উৎকণ্ঠা! বাঁচার জন্য ছুটে বেড়াচ্ছে যুবা-বৃদ্ধ থেকে শুরু করে সেখানকার নিষ্পাপ শিশুরাও। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ফিলিস্তিনে এমন চিত্র এখন নিত্যনৈমিত্তিক। তেমনই একটি ফিলিস্তিনি শিশুর ছবির দিকে তাকিয়ে তৈরি হয়েছে এই গান, শিরোনাম ‘মৃত্যু উপত্যকা’। এটি লিখেছেন গীতিকবি শেখ রানা।
গানটি গেয়েছেন ব্যান্ড শহরতলী’র ভোকালিস্ট মিশু খান। ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালকে তিনি বললেন, ‘গানের কথাগুলোয় বাচ্চাদের ঘটনাগুলো আছে। সাদা বাড়ি, অর্থাৎ হোয়াইট হাউজ থেকে পাঠানো বার্তার উপর ভিত্তি করে যেসব বর্বরতা পরিচালিত হয়, এই গানের কথায় এসব বিষয় রয়েছে। আমরা মূলত এই ধরনের ঘটনাগুলো দেখতে চাই না, আমরা যুদ্ধবিরোধী। আমরা চাই মানুষ তার সুন্দর একটা পৃথিবী পাক, পৃথিবী যতদিন বেঁচে থাকে ততদিন যেন এমন বর্বরতা না ঘটে।’
মৃত্যু উপত্যকা মূলত মিশুর একক গান। দীর্ঘদিন ধরে শহরতলীর সঙ্গেই গান করছেন তিনি। যদিও কিছু গান থাকে যেগুলো এককভাবে গাওয়ার প্রয়োজন হয়—এমনটা উল্লেখ করে এই গায়ক বলেন, ‘বিগত ২০-২২ বছর ধরে গান করছি। সবসময় শহরতলীর মাধ্যমেই গান করেছি। কখনও আলাদাভাবে নিজেকে নিয়ে চিন্তা করিনি। এখন দেখা গেছে, কিছু গান থাকে যেগুলো শহরতলীর বাইরেও করতে হয়। সেই জায়গা থেকে মৃত্যু উপত্যকা গানটি আমার একক গান। এখানে কিছু বার্তা রয়েছে, সেটা যুদ্ধবিরোধী; মানুষ মানুষকে হত্যা করছে, সেটা বন্ধ করার কথা বলেছি। তারপর সাদা বাড়ির (হোয়াইট হাউজ) ঘাতক দিনে দিনে যে শঙ্কা বাড়াচ্ছে, এদিকে তাদের পরবর্তী আদেশ শুনতে কেউ আবার মাথা পেতে আছে, যেসব শিশুরা পাপ কী বোঝে না—তাদের হত্যা করা হচ্ছে, এই বিষয়গুলো আছে।’

এর আগে শেখ রানার কথায় শহরতলী প্রকাশ করেছিল তাদের ‘শহরতলীর আকাশ’, ‘তাদের কথা হোক’ শিরোনামের গান দুটি। এবার এল মিশুর কণ্ঠে মৃত্যু উপত্যকা। গীতিকবি রানাকে নিয়ে তাঁর ভাষ্য, ‘রানা ভাই অসাধারণ লেখক, তিনি খুব চমৎকার লেখেন। নাগরিক লেখা লেখেন। আমার কাছে মনে হয়েছে, মানুষ যদি গানটা (মৃত্যু উপত্যকা) শুনেন তাহলে উপলব্ধি করতে পারবেন যে কোন আবেগ থেকে এটা লেখা হয়েছে। গান হলো সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম, যেটার মাধ্যমে মানুষের কাছে চমৎকারভাবে বার্তা দেওয়া যায়।’
শহরতলী’র গানের প্রতিবাদী স্বরের বিষয়টি অবতারণা করে এই গায়ক আরও বলেন, ‘গানই আমার প্রতিবাদের ভাষা, গান দিয়ে আমি আমার বার্তাটা তুলে ধরতে পারি, সেই জায়গা থেকে শহরতলীর যতগুলো গান বের হয়েছে, সেখানে কোনো না কোনো বার্তা ছিল। মানুষ নিতে পারছে কি পারেনি—সেটা মানুষ জানে।’
এর আগে মিশু খান এককভাবে গেয়েছিলেন ‘একা কথা’ ও ‘তাদের কথা হোক’। এবারের মৃত্যু উপত্যকা তাঁর তৃতীয় একক গান। তবে শহরতলী’র সকল সদস্যরাই এই গানে তাঁকে সঙ্গ দিয়েছেন। কি-বোর্ডে ছিলেন সাদি মোহাম্মাদ, বেস গিটারে রাজীবুর রহমান, লিড গিটারে ফাহিম পাশা এবং ড্রামসে ছিলেন মাহবুবুল আকরাম রবি। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ব্যান্ডটির পারফর্মিং ভোকালিস্ট জিল্লুর রহমান সোহাগ। সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যুক্ত ছিলেন মাহিবুল হাসান মাহিম।
রোববার (২০ এপ্রিল) রাতে মৃত্যু উপত্যকা গানটি ভিডিও আকারে প্রকাশিত হয়েছে মিশু খান শহরতলী ইউটিউব চ্যানেলে। হাইপার কাটস প্রোডাকশনের ব্যানারে অ্যানিমেশন ভিডিও নির্মাণ করেছেন হাসিবুল হক। এর আগেও শহরতলীর বেশকিছু গানে কাজ করেছেন তিনি।
মিশু বলেন, ‘এই গানের কাজ করতে গিয়ে আমি খুব বেশি ভয়ে ছিলাম, কারণ ইউটিউব বা ফেসবুকে প্যালেস্টাইন নিয়ে কাজ করলে, সেখানে খুব ঝামেলা হয়, আমাদেরও হচ্ছিল। ভিডিওটির ক্লেইম আসছিল, কখনও পেইজ ডাউন হয়ে যাচ্ছিল। ও (হাসিব) আমাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে, ভিডিওটি তৈরিতে ওর খুব ইনপুট ছিল এবং পরিশ্রমও ছিল।’


আমেরিকার ৮ শহরে গাইবেন অর্ণব
এল মেঘদলের ‘গোলাপের নাম’
