আজ থেকে ঠিক পঞ্চাশ বছর আগে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, ভারতীয় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল রমেশ সিপ্পি পরিচালিত কালজয়ী ছবি ‘শোলে’। সাতের দশকের সর্বোচ্চ আয়কারী এই সিনেমা তখন ভেঙে দিয়েছিল সব রেকর্ড। টানা পাঁচ বছর—অর্থাৎ প্রায় দুই হাজার দিন বড় পর্দায় চলেছিল ছবিটি। বাজেট ছিল মাত্র তিন কোটি রুপি, অথচ মুক্তির পর আয় হয় প্রায় পঁইত্রিশ কোটি রুপি—দশ গুণেরও বেশি!
তারকাদের পারিশ্রমিকের তালিকা
চিত্রনাট্য লিখেছিলেন সেলিম–জাভেদ জুটি। ছবির তারকাদের পারিশ্রমিকও ছিল আলোচনার বিষয়।
ধর্মেন্দ্র (বীরু) – ১ লাখ ৫০ হাজার রুপি
সঞ্জীব কুমার (ঠাকুর) – ১ লাখ ২৫ হাজার রুপি
অমিতাভ বচ্চন (জয়) – ১ লাখ রুপি
হেমা মালিনী (বাসন্তী) – ৭৫ হাজার রুপি
আমজাদ খান (গব্বর) – ৬৫ হাজার রুপি
জয়া বচ্চন (রাধা) – ৩৫ হাজার রুপি
ম্যাক মোহন (সাম্ভা) – ১২ হাজার রুপি
বিজয় খোটে (কালিয়া) – ১০ হাজার রুপি
একে হাঙ্গাল (ইমাম সাহেব) – ৮ হাজার রুপি
শচীন – পারিশ্রমিক হিসেবে পেয়েছিলেন একটি ফ্রিজ!
কাস্টিংয়ের পেছনের গল্প
গব্বর সিং চরিত্রে প্রথমে আমজাদ খানকে নিতে অনীহা ছিল জাভেদ আখতারের। তাঁর মনে হয়েছিল, আমজাদের গলার স্বর একজন ভয়ঙ্কর ডাকাতের জন্য যথেষ্ট প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু পর্দায় আসার পর সেই সন্দেহ উড়ে যায়। আজও ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে জনপ্রিয় খলনায়কের নাম উচ্চারণ করলে গব্বর সিং-এর ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
রেকর্ড, পুরস্কার আর বিতর্ক
আয়ের দিক থেকে তুমুল সফল হলেও পুরস্কারের ঝুলি ছিল প্রায় খালি। একমাত্র ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড পায় ‘সেরা সম্পাদনা’-র জন্য। সেরা ছবি, সংলাপ, পরিচালনা—সবই চলে যায় অমিতাভ–শশী কাপুর অভিনীত ‘দিওয়ার’-এর ঘরে।
তবে রেকর্ডের খাতায় নাম তুলেছিল অন্যভাবে—এটি ছিল ভারতের প্রথম ছবি যা একশোরও বেশি প্রেক্ষাগৃহে টানা পঁচিশ সপ্তাহ ধরে চলেছিল, যা ‘রজতজয়ন্তী’ হিসেবে পরিচিত।
চরিত্রের অনুপ্রেরণা
জয় ও বীরুর নাম রাখা হয়েছিল সেলিম খানের কলেজ বন্ধু ইন্দোরের জমিদারপুত্র বীরন্দর সিং বিয়াস এবং পিন্ডারি যোদ্ধা–সবজি চাষি জয় সিং রাও কালেভারের নামে।
গব্বরের জনপ্রিয়তা
গব্বর সিং এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে এক বিস্কুট কোম্পানি তাঁকে নিয়ে বিজ্ঞাপন বানায়। এটাই ছিল প্রথমবার যখন কোনও খলনায়ক চরিত্রকে বিজ্ঞাপনের মুখ বানানো হয়। বিজ্ঞাপনটি শিশুদের মধ্যে তুমুল সাড়া ফেলে—বিক্রি বেড়ে যায় দ্বিগুণ।
শুটিংয়ের অজানা কাহিনি
পানভেলের কাছে মুম্বাই–পুনে লাইনে ট্রেন ডাকাতির দৃশ্যের শুটিং হয়েছিল টানা ২০ দিন। বীরুর ট্যাঙ্কের ওপর উঠে বাসন্তীর মাসিকে হুমকি দেওয়া ও জয়–মাসির কথোপকথনের ঘটনা বাস্তব কাহিনি থেকে নেওয়া। জয় কয়েন ফ্লিপ করার আইডিয়া এসেছিল হলিউড ছবি ‘গার্ডেন অব ইভিল’ থেকে।
টিভি প্রিমিয়ারে ফাঁকা রাস্তাঘাট
১৯৯৬ সালের ১৫ আগস্ট, মুক্তির ২১ বছর পর প্রথমবার শোলে দূরদর্শনে প্রচারিত হয়। সেদিন দেশের নানা শহরে টিভির সামনে দর্শক জমায়েত হয়—রাস্তা প্রায় ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল।


পিছিয়ে যাচ্ছে শাহরুখের ‘কিং'
